- বেশিদামে কিনা কিনা হামাকে অব্যাস হচে
মান্দার চাঁনপুর-পিড়ড়ী গ্রামের জাবেদ আলী। বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছেন। এক সময় নদ-নদী, খাল বিলে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতেন। যা আয় হতো তাই দিয়েই সংসার চলতো। এখন বয়স হওয়ায় মাছ ধরা হয় না। সব মিলিয়ে পরিবারের জমি দুই বিঘা। সংসারে তার তিন ছেলে চার মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে বাড়িতেই থাকেন জাবেদ আলী। ছেলেরা মাছ ব্যবসা করে যা আয় করেন তাই দিয়ে চলছে সংসার। বর্তমানের বাজারে সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় জাবেদ আলীর ছেলেদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
গত শুক্রবার প্রতিবেদকের সঙ্গে জাবেদ আলীর কথা হয় মান্দার সতীহাট বাসস্ট্যান্ডে। জীবন কেমন চলছে? এমন প্রশ্ন করতেই কিছুটা হতাশ সুরে বললেন, কিচু করার নাই বাপো। হামরা গরিব মানুষ। দু-চারদিন পরপর দোকানদারেরা একটা কর্যা বাহানা দিয়া সবকিচুর দাম বারাওচে। সবকিছু বেশিদামে কিনা কিনা হামাকে অব্যাসে পরিণত হয়্যা গেচে। বাচপ্যার চ্যালে খাওয়া লাগবে তো। কামাই তো আর বাড়েনি, যেমন আয়, তেমন ব্যয়। কি আর করার!
সয়াবিনের দাম বাড়ার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে জাবেদ আলী বলেন, আগে সোয়াপিনের ত্যাল আর পিঁয়াজ রসুনের দাম কম আচলো। তকন এক কেজি কর্যা কিনোচনো। একন সবকিচুর দাম বেশি, তাই এককেজির বদলে একপোয়া কর্যা কিনা কোনোমতে চলোচি বা। কয়দিনইব্যান বাঁচমো। এ্যাগলা লিয়া আর আশান্তি করব্যার পারমো না বা। আল্লাহ হামাকে কপালে যা থুচে, তাই হবে ।
একই উপজেলার গণেশপুর গ্রামের ভ্যানচালক বয়েজ উদ্দিন। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়েই সংসার চলে। প্রতিবেদককে বলেন, ম্যালাগুল্যা এনজিওত থ্যাকা কিস্তির ওপরে ট্যাকা তুল্যা অনেক কষ্ট কর্যা চলি। সপ্তাহে অনেকগ্যুলা করা কিস্তি দেওয়া লাগে। এ্যারপর আবার মাছ, তরকারি কিনা যে ট্যাকা থাকে সেডা দিয়া ব্যাটার লেখাপাড়ার খরচ চালাতে য্যায়্যা দিশাহারা হয়্যা যাই।
বয়েজ উদ্দিন আরো বলেন, বর্তমান বাজারে ত্যাল- পিঁয়াজ ও গরুর গোস্তর যে দাম, সে তুলনায় ধানের দাম নাই। কিন্তু চাউলের দাম বেশি। হামাকে মতো গরীবের চাউল কিনা ভাত। গরীবের কোন শান্তি নাই। হামাকে প্রতিবাদ করার ভাষা নাই। সব দিকেই সংকটে আচি হামরা।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার শুকর হোসেন। চায়ের দোকান করে সংসার চালান। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে সংসার চালানোর পাশাপাশি ব্যবসা চালানো নিওে দুশ্চিন্তায় আছেন। বলেন, সোয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি। আগে দোকানের আয় থেকে সংসার চালাতে পারলেও এখন আর পারছি না। দোকানের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে, জিনিসপত্রের দাম গেছে বেড়ে। দুই দিকে সামাল দেয়া কঠিন। সংসারে খারাপ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী সুজন মোল্লার সংসারেও অনেক অশান্তি। সয়াবিনসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ার কারণে বেতনের টাকায় আর কুলাচ্ছে না। মাসের অর্ধেক পর্যন্ত গিয়ে বেতন টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে।









