দেশে বাড়ছে উপসর্গ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উপসর্গ না থাকায় বুঝে ওঠার আগেই সংক্রমিত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এমন নীরব রোগীর কারণে দেশে করোনার সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, উপসর্গ নেই, অথচ করোনায় আক্রান্ত—এসব রোগী সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ সে পরিবার, প্রতিবেশিসহ যেখানে যাচ্ছে সেখানেই মানুষকে সংক্রমিত করছে। পজিটিভ কি না, জানে না। জানার আগেই অনেককে সংক্রমিত করে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে চাহিদা অনুযায়ী করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি, এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সবারই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও বিএমএর কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেইভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার নন-টেকনিক্যাল পারসন দিয়ে পরীক্ষা করানোর কারণে ফলস রিপোর্ট আসে। যত দিন রোগীর সংখ্যা কমে না আসে, লকডাউন কার্যকর করতে হবে।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সমীর সাহা বলেন, লক্ষণ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এর টিকা এক থেকে দুই বছরের আগে আসবে না।
দেশের রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশে উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আবার এমনও রোগী পাওয়া যাচ্ছে, যাদের শরীরে করোনার সব ধরনের উপসর্গ রয়েছে, কিন্তু তিনি করোনা আক্রান্ত নন। গাইবান্ধায় দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
রাজধানীর কয়েকটি সরকারি হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহে এসব হাসপাতালে যারা চিকিৎসার জন্য এসেছেন, তাদের ৯০ শতাংশের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। অর্থাৎ, দেশে বর্তমানে ৫০ শতাংশ উপসর্গহীন করোনা রোগী আছেন।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এ









