দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ ফল উৎপাদিত হয় তা দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪১ শতাংশ মেটানো যায়। একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ফলের চাহিদা প্রায় ২০০ গ্রাম। তবে আমাদের দেশে মোট উৎপাদিত ফল দিয়ে একজন ব্যক্তির মাত্র ৮২ গ্রাম চাহিদা মেটানো যায়। এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি করতে হয় এবং এর ফলে বিপুল পরিমাণে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগ আয়োজিত অমৌসুমী ফলের আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণে এমন তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা।
গাজীপুরে উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, দেশে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। দেশে মোট উৎপাদিত ফলের ৫৬ শতাংশ উৎপাদিত হয় মে-আগস্ট এ চার মাসে। বাকি আট মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-এপ্রিল সময়ে মাত্র ৪৪ শতাংশ ফল উৎপাদিত হয়। এ সময়ে আমড়া, লটকন, আতা, শরিফা, সফেদা, মাল্টা, কমলা, বাতাবী লেবুর মতো অমৌসুমী ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে মোট ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধমে জনগণের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ৩০ ফলচাষি অংশগ্রহণ করেন। বারি’র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কৃষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফল বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জিল্লুর রহমান। এছাড়াও কৃষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বারি’র বিভিন্ন বিভাগ ও কেন্দ্রের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









