খরচ কম ও অধিক লাভ হওয়ায় দিনাজপুরে দিন দিন ভুট্টাচাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা। পাশাপশি চাষিদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ প্রণোদনা প্রদানসহ সার্বিকভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরগলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় ৭১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টাচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ টন। তবে চাষিরা কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে অতিরিক্ত হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, ভুট্টাচাষে উৎপাদন খরচ কম, ফলন ও দর দুই-ই আশানুরূপ বেশি পাওয়ায় চাষিরা ভুট্টা চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগিসহ গরু ও ছাগলের খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নেপালসহ বিভিন্ন দেশে ভুট্টা রফতানি হচ্ছে। বাজারে দর বেশি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে অনেকগুণ। চাহিদা বাড়ায় চাষিরা দিন-দিন ভুট্টাচাষের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়াও ভুট্টাগাছের পাতাও গো-খাদ্য এবং গাছেরকান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে বিরল, বীরগঞ্জ, কাহারোল উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চ ফলনশীল জাতের সুপারসাইন ২৭৬০, কাবেরি ৬৩, দূর্জয়, কহিনুর জাতসহ বিভিন্ন প্রকার হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষাবাদ করছেন।
বীরগঞ্জ উপজেলার বড় শীতলাই গ্রামের ভুট্টা চাষি হুসেন আলী বলেন, একবিঘা জমিতে ভুট্টাচাষে উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৪০ মণ। যার বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সময়ভেদে দর আরও আরো বেশি পন চাষিরা।
একই গ্রামের কৃষক নোবেল বলেন, ভুট্টা চাষ করলে কয়েকমাস গরুর খাদ্যের চিন্তা থাকেনা। ভ্ট্টুা বিক্রি করে লাভ হয় এবং গাছগুলো শুকিয়ে পরবর্তী জ্বালানী হিসেবে অনেক উপকারে আসে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চাষিদের ভুট্টাচাষে আগ্রহী করতে কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের মাঝে সার ও উন্নত জাতের বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভুট্টাচাষে রোগবালাই কম হওয়ার পাশাপাশি সেচও কম দিতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ অন্যফসলের চেয়ে অনেক কম হয়। একই সঙ্গে ভুট্টাক্ষেতকে রোগবালাই মুক্ত রাখাসহ উৎপাদন বাড়াতে সার্বিকভাবে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
আনন্দবাজার/এম.আর









