বেড়িবাঁধ বিলীনের আশংকায় কলাপাড়ায় সবজির আবাদে বিপর্যয় দেখা দেয়ার শঙ্কায় রয়েছে হাজারো কৃষকের মাঝে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচটি স্পটে রিভার সাইটের স্লোপসহ অর্ধেকটা বিলীন হয়ে গেছে। তিন ভেন্টের স্লুইসের উইং ওয়ালসহ ব্লক নেই। নতুন নতুন স্পটে বাঁধে ভাঙন ধরেছে।
এভাবেই সোনাতলা নদীর ভাঙনে পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৬ নম্বর পোল্ডারের এ বাঁধ ঘেঁষা বাসিন্দারা প্রতি রাতেই বিধ্বস্ত বাঁধটি দেখতে যায়। সবজির ঘাঁটি খ্যাত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের এ বেড়িবাঁধটি রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে দেড় হাজার সবজিচাষিসহ হাজার হাজার কৃষক পরিবার জমিজমার ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়বে। ভেসে যাবে গোটা এলাকা। বাঁধ ঘেঁষা কান্ট্রি সাইটের বাসিন্দা আনোয়ার মুন্সী, হানিফ হাওলাদারসহ শতাধিক পরিবার প্রতিনিয়ত দুর্ভাবনায় থাকেন বাঁধের বিধ্বস্ত দশার কারণে। এই বুঝি সম্পূর্ণ বেড়িবাঁধ ধসে গেল এমন আতঙ্ক সবার মধ্যে।
গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির মাহমুদ জানান, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে জিও ব্যাগের প্রোটেকশন দেয়া হয়েছিল। পুরনো বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে বিকল্প বেড়িবাঁধ করা হয়। তাও এখন ভেঙে গেছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা সোনাতলা নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। একমাত্র তিন ভেন্টের স্লুইসটির রিভার সাইট অন্তত ২০ ফুট নদী গিলে খেয়েছে। কান্ট্রি সাইটের ভেন্টের উপরের মাটি দেবে গর্ত হয়ে গেছে। এখন জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে কিংবা যে কোনোভাবে বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রোটেকশন দেয়ার দাবি জানান তিনি। কৃষকরা আরও জানান, এ বাঁধ ছুটে গেলে পূর্ব গৈয়াতলাসহ আশপাশের ১০-১২ গ্রামের ফসলহানি ঘটবে। তাই বাঁধ রক্ষায় এ সিজনেই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে আমনসহ সবজি চাষে বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দিবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ৪৬ পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আগেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।









