নভেল করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিউটি পার্লারের ব্যবসা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক কর্মজীবী নারী। সৈয়দপুরে প্রায় অর্ধশত বিউটি পার্লার রয়েছে। যেখানে প্রতিটি পার্লারে পাঁচ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত কর্মজীবী নারী কাজ করত। তবে করোনায় কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।
কয়েকজন পার্লার কর্মী জানান, পার্লারের বেতনের টাকা দিয়ে সংসার খরচে অর্থের যোগান দিতেন তারা। এতে করে স্বামী-স্ত্রীর আয়ে সংসার মোটামুটি চলে যেত। তবে করোনার প্রকোপে এখন বেকার থাকায় একজনের আয়ে আর সংসার চলছে না। ধারদেনা করেও এখন সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ছোট দোকানিরা এখন আর তাদের বাকিতে সওদাও দিতে রাজি হয়না।
এ ব্যাপারে পার্লার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাসলিমা সরকার শিউলি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ১৪ জন নারী কর্মী কাজ করতো। কাজ না থাকায় সবাইকে ছাটাই করতে হয়েছে। নিজের আর্থিক সংকটের কারণে তাদের সাহায্য করাও সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি পার্লার কর্মীরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিরও তেমন সুযোগ পাচ্ছে না। বলতে গেলে মুখ বন্ধ করে তারা দারিদ্র্য সীমার নিচে জীবন অতিবাহিত করছে। তার মতে তার প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা আয় হতো। কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করেও সংসার মোটামুটিভাবে চলে যেত। কারো মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হতো না।
শিউলি আরও জানান, বিউটি পার্লার মালিক ও কর্মচারীরা চরম অসহায় পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে। গত তিন মাসে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসলে পার্লার ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসা পর্যন্ত এই ব্যবসায় সরকারকে প্রণোদনা দেয়াসহ এনজিও কিস্তি আদায় বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
আনন্দবাজার/টি এস পি









