দশ টাকা দামের পাউরুটি কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন এবং সেই ভিডিও লাইভের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় দুইজন শিক্ষককে প্রবেশন আইনে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ রায় ঘোষণা করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত রাজশাহী’র বিচারক মো. জিয়াউর রহমান।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বৈরতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহা. আব্দুস সালাম ও একই মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম কবির। রাষ্ট্রপক্ষের ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২ জন আসামীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১/৩১ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়। তাদের সামাজিক ও পারিপাশির্^ক অবস্থা আদালত বিবেচনায় এনে শাস্তির পরিবর্তে শর্তের ভিত্তিতে প্রবেশন মঞ্জুর করে তাদের মুক্তি দেন।
আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, প্রবেশনকালীন সময়ে আসামীরা ১ বছরের জন্য আদালত নিয়োগকৃত একজন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। এ সময়কালে আসামীরা বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন’ ৩টি বই পড়বেন। সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর জাহানার ইমামের লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা ‘একাত্তরের চিঠি’ এ দুটি বইসহ পাাঁচটি বই পড়বেন এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জানাবেন। প্রবেশনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামীদের ১০টি বনজ ও ১০টি ফলজ গাছ রোপনের নির্দেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ইসমত আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশের সাইবার ট্রাইব্যুাল আদালতগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম প্রবেশন। আসামীরা আপাত: দৃষ্টিতে মুক্তি পেলেও আগামী একবছর আদালতের নজরদারিতে থাকবেন। আদালতের শর্তভঙ্গ করলে ও আচরণ সন্তোষজনক না হলে তাদের প্রবেশন আদেশ বাতিল হবে শাস্তি হিসেবে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১/৩১ ধারার প্রত্যেক অপরাধের জন্য ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩০দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
আসামীপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শারমীন কানিজ বলেন, ফৌজদারী মামলার বাইরে প্রবেশনের বিধান একটি যুগউপযোগী উদ্যোগ। আমি আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। আশাকরি প্রবেশনপ্রাপ্ত আমার দুইজন মক্কেল আদালতের শর্ত সঠিকভাবে পালন করে মামলা থেকে মুক্তি পাবে।
আনন্দবাজার/শহক









