ফরিদপুরে প্রচন্ড গরমে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। জেনারেল হাসপাতালের ১০ শয্যার বিপরীতে ১০০ জন রোগীকে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪২ জন রোগী। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের বারান্দা ও গাছ তলায় থাকতে হচ্ছে রোগীদের।
গতকাল রবিবার দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগী ও স্বজনদের চাপে গিজ গিজ করছে ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ১০টি। তবে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১শ’ জন। অনেক রোগীকে বারান্দায় এবং কাউকে কাউকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ড ছাড়াও আশে পাশের সকল ওয়ার্ডে এখন ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছে রোগী। হাসপাতালটির কোথাও সিট না পেয়ে অনেকেই বারান্দায় ও গাছতলায় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স গোলাপি বেগম বলেন, আমরা এখন সাপ্তাহিক ছুটি না নিয়েও দিন রাত রোগীর সেবা করে যাচ্ছি। রোগী আসছে প্রচুর, জায়গা দিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ফ্লোর, বারান্দা আবার অনেকেই গাছতলায় সেবা নিচ্ছেন।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গণেশ কুমার আগরওয়ালা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪২ জন রোগী। আর গত এক সপ্তাহে এ রোগের ভর্তি রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৬৪৩ জনের। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০০ জন রোগী। তবে ভর্তি রোগী বেশি দিন থাকছে না, ভালো হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান এ চিকিৎসক।
ফরিদপুরের সির্ভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি না নেওয়ায় চাপ বেড়েছে জেনারেল হাসপাতালে। এই হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা মাত্র ১০টি। বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১শ’। এ বিপুল সংখ্যাক রোগী সেবা দিতে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।









