নীলফামারীর সৈয়দপুরে সবজি চাষীদের পৌর পাইকারী আড়তের প্রবেশ পথে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও আশপাশের উপজেলা থেকে সবজি নিয়ে আসা চাষীদের বাধা দিয়ে বাইপাস সড়কের নতুন সবজি বাজারে ফিরিয়ে দিয়েছন ওই বাজারের সভাপতি মিজানুর রহমান লিটনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। এসময় চাষীদের সাথে বাকবিতন্ডা করাসহ চাষীদের বাই সাইকেল ও ভ্যানও ভাঙ্চুর করেছে তারা।
এদিকে চাষীদের দাবী তারা পৌর সবজি আড়তে তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। কিন্তু নতুন সবজি বাজারে সঠিক মূল্যের অনেক কমে বিক্রি করতে হয়। যার কারণে তারা সবজি আড়তেই তাদের মালামাল বিক্রি করতে স্বাছদ বোধ করেন। কিন্তু তাদেরকে পৌর সবজি আড়তে আসার পথে মোড়ে মোড়ে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। অনকের ভ্যান সাইকেল ভাঙ্চুর করে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নতুন সবজি বাজারে। এতে আর্থিকভাব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সবজি চাষী কৃষকরা।
এ নিয়ে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর তালতলাপড়াার মোখলেছুর রহমান নামে এক চাষী পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একই এলাকার নুরুজ্জামান, জিকরুল হক, ইয়াকুব, জালাল উদ্দীন ও আব্দুস সামাদ বলেন, মহামারি করোনার কারণে অনেক কষ্টে শেষ সম্বল সবজি টুকু বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। সবজি নিয়ে শহরের পৌর সবজি আড়ৎ নয়াবাজার আসার সময় রাবেয়া মিলের কাছে ও ওয়াবদা মোড় এলাকায় আটক করে ভ্যান ও সাইকেল ভাংচুর করে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিলে মারধর করছে বাইপাসনসরকে গড়ে ওঠা নতুন পাইকারী কাচা বাজার সমিতির লোকজন।
এ ব্যাপারে পৌর নয়াবাজার সবজি আড়তের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম গোল্ডন ও সহ সম্পাদক কবিরুল জানান, আমরা দীর্ঘ কযেক বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। একটি মহল আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ নিয়ে আমরা মহিলা এমপি রাবয়া আলিমসহ, উপজলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমদ, পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খানকে জানিয়ছি। তারা বিষয়টি মিমাংসার জন্য সময় নিয়েছেন। কিন্তু ওই বাজারের লোকজন তাদের কথাও মানছেনা। যার কারণ জোড় করে চাষীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বাজার নিয়ে যাওয়ার মত কান্ড ঘটিয়েই চলেছে। আমরা সমাজের সচেতন মহলের কাছে এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বাইপাস সড়কে অবস্থিত পৌর পাইকারী কাঁচা বাজার সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান লিটন বলেন, আমরা নয়াবাজার পৌর সবজি আড়তে গিয়েছিলাম। গত কয়কদিন যাবত যে চাষীরা আমাদের বাইপাস সড়কের বাজারে পণ্য বিক্রি করতো তারা ইদানিং না আসায় খবর নেয়ার জন্যই মূলত যাওয়া হয়েছিল। সেখান কয়েকজনকে দেখা পেয়ে আমাদের বাজারে যাওয়ার জন্য বলেছি মাত্র। কোন প্রকার বাধ্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সবজি বাজার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছ। যে কোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মত অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।
আনন্দবাজার/শহক/ মনন









