করোনাভাইরাসের কারণে এবারের আসন্ন কোরবানির ঈদে কমবে কোরবানির পশুর চাহিদা। অন্যদিকে দেশে এবার চাহিদার চেয়েও ৯ লাখ বেশি পশু উৎপাদিত হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও ভারত এবং মিয়ানমার থেকে আসছে গরু। দেশের বাইরে থেকে গরু আসা বন্ধ না করলে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে দেশের পশু খামারিরা।
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এবং ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নামায় এবার দেশে উৎপাদিত কমপক্ষে ২০ লাখ গবাদিপশু অবিক্রীত থেকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। আর এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে থেকে পশু আসলে এই পরিমাণ বেড়ে যাবে শঙ্কাজনক হারে। সেক্ষেত্রে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের প্রান্তিক খামারিরা।
এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (খামার) ড. এবিএম খালেদুজ্জামান দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, আমাদের আন্ত-মন্ত্রণালয় বৈঠক হবে আগামী বৃহস্পতিবার। মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিজিবি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকবে। বৈঠকে গবাদি পশু আসার সকল পয়েন্ট সিল করে দেয়ার ব্যাপারে কথা হবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সবগুলো পয়েন্ট সিল করে দেয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানি না করায় ব্যবস্থা নিতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতি এড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিদের পশু অনলাইনে অথবা হাটে বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য বিভাগীয় এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসনের সহযোগীতায় কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতি এড়াতে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এমার্জেন্সি একশন প্ল্যান থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার ডেইরি খামারিকে ৯৬ মিলিয়ন ডলার প্রণোদনা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোরবানিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারিদের এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পশু অবিক্রিত থাকার পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সীমান্তে অবৈধ পথে পশু আসা বন্ধ করতে হবে বলেও জানান তারা।
এদিকে সরকারের সহযোগীতা পেলে পশু অবিক্রিত থাকা কিংবা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না বলে মনে করছেন পশু খামারিরা। পশু হাটে নেয়ার অতিরিক্ত পরিবহন খরচ এবং সকল ব্যবস্থাপনা যেন সরকারি ভাবে তদারকি করা হয় সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









