- বর্ষায় বৃষ্টি নেই
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নৌকা ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুম উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের ১০ থেকে ১৫ টি হিন্দু পরিবার নতুন নৌকা তৈরি করে বিক্রি করতেন। নৌকা বিক্রির আয় থেকে বর্ষার মৌসুমে স্বাচ্ছন্দে তাদের পরিবারের খরচ চালাতেন তারা। বর্ষা মৌসুমে মাঠে তেমন কাজ না থাকলেও নৌকার ব্যবসাই ছিল তাদের প্রধান আয়ের উৎস। চলতি বছর অনাবৃষ্টিতে বর্ষা মৌসুমে মাঠ ও জলাশয় প্লাবিত না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আশানুরূপ নৌকা বিক্রি হয়নি। কোন কোন ব্যবসায়ী বর্ষার মৌসুমে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নৌকা তৈরি করে প্রস্তুত করলেও চাহিদা কম থাকায় কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না।
চাপাতলী এলাকায় তৈরি হওয়া নৌকা দিয়ে, জেলার দাউদকান্দি, চান্দিনা, মুরাদনগর, তিতাস উপজেলা মাছের প্রজেক্টে খাবার দেওয়া, জলাশয় থেকে গবাদি পশুর খাবার যোগানো সহ মৌসুমী মৎস্যজীবীরা মাছ শিকার করতেন। চলতি বছর জলাশয়ে পানি না থাকায়, সেই সমস্ত এলাকাগুলোতে নৌকার ব্যবহার তেমন হয়নি বলে জানা যায়।]
নৌকা ব্যবসায়ী সুখেন সরকার জানান, বহু বছর আগে থেকেই তাদের গ্রামের কয়েকটি পরিবার বর্ষার মৌসুমে নৌকা তৈরি করে স্থানীয় ইলিয়টগঞ্জ বাজারে হাটবার দিনে বিক্রি করতেন। প্রতি মৌসুমী প্রায় ২০ হাটবার দিন ইলিয়টগঞ্জ বাজারে নৌকা বিক্রি করতেন তারা। এ মৌসুমে মাত্র একদিন হাটে নৌকা বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক সময় হাটের দিনের অপেক্ষায় না থেকে, ক্রেতারা তাদের বাড়িতে এসে পছন্দমত নৌকার আকার ও ডিজাইন নির্ধারণ করে দিয়ে নৌকা তৈরীর চাহিদা দিতেন। চলতি বছর অনেকেই নৌকা বিক্রিতে সম্ভাবনা না দেখে গুছিয়ে নিয়েছেন তাদের তৈরি যন্ত্রপাতি। কোনো কোনো নৌকা ব্যবসায়ী বেছে নিয়েছেন অন্যপেশা। এক সময় যে নৌকা বিক্রি করা হতো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়, চাহিদা থাকায় এখন সেই নৌকা বিক্রি করতে হচ্ছে তার অর্ধেক দামে। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে একাধিক নৌকায়। অলস বসে থেকে অর্থনৈতিক চাপেই দিন কাটছে তাদের।









