ম্যানেজার হলের প্রবেশ মুখে একাই দাঁড়িয়ে আছেন। গেটম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো পর্দায় খলনায়ক মিশা শওদাগার ডায়ালগ চলছে। দুইজন দর্শক চেয়ারে বসে ছবিটি উপভোগ করছে। পুরো হলরুমের চেয়ারগুলো ফাঁকা। নেই আগের মতো বাদাম আর ঝালমুড়ির হকার। ২ জন দর্শক নিয়েই মনিং শো শেষ হয়
৮০ আর ৯০ এর দশকে নায়ক রাজ রাজ্জাক,আলমঙ্গীর, ফারুক ম্যাগেষ্টার উজ্জল, চিত্রনায়িকা কবরি, সাবানা, রোজিনার ছায়াছবি সিনেমা হলে আসলেই দর্শকদের ছিলো হলগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ভিড় এড়াতে অনেকেই কন্টাকে টিকিট কেটে সিনেমা হলে প্রবেশ করতেন। সেই সিনেমা হলগুলো এখন দর্শক শুণ্য। সব কিছুই রয়েছে আগের মতোই, নেই শুধু দর্শক।
সরেজমিনে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মনোরমা সিনেমা হলে দেখা যায়, চিত্র পরিচালক রাজু চৌধুরী পরিচালিত বাংলা ছায়াছবি নাজেহাল ছবির পোষ্টার, ফেস্টুন দিয়ে পুরো সিনেমা হল রংঙিন করে রাখা হয়েছে। ম্যানেজার হলের প্রবেশ মুখে একাই দাঁড়িয়ে আছেন। গেটম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো পর্দায় খলনায়ক মিশা শওদাগার ডায়ালগ চলছে। দুইজন দর্শক চেয়ারে বসে ছবিটি উপভোগ করছে। পুরো হলরুমের চেয়ারগুলো ফাঁকা। নেই আগের মতো বাদাম আর ঝালমুড়ির হকার। ২ জন দর্শক নিয়েই মনিং শো শেষ হয়ে গেলো।
সিনেমা দেখতে আসা দর্শক রাসেল শেখ ( ২১) বলেন, বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। তাই বিয়াইকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমা হলে আসলাম। ২ জন একশত টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি। দর্শক না থাকায় পুরো ছবি আমরা দুই জনেই দেখলাম।
মনোরমা সিনেমা হলের ম্যানেজার নারায়ন দাস (৬০) জানান, ত্রিশ বছর সিনেমা হলে চাকুরি করছি। সিনেনা হলে এতো দর্শক শুণ্য কোনো দিন দেখি নাই। হোটেল, পান দোকান, চায়ের দোকানে টেলিভিশনে চব্বিশ ঘন্টা ছায়াছবি চলার কারণে আজ আমাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে।
চিত্রপরিচালক সাইদুল ইসলাম রানা বলেন, পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে ছবি দেখা যায় এমন ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে। সিনেমা হলের পরিবেশ মানসম্মত না হওয়ার কারণে দর্শক সিনেমা হলে আসতে চায় না।









