পর্যটন নিয়ে ভিন্ন চিন্তা এগিয়ে যেতে চার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলায় কখনো মেডেনওভার যায়। আবার ছয় বলে ৩৬ রানও হয়। এখন আমাদের সামনে ছয় বলে ৩৬ রান করার সুযোগ এসেছে। উপকরণ ও ইচ্ছে দুটিই আছে। মাহবুব আলী আরও বলেন, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এসেছে। মূল্যবোধগুলোকে পদাঘাত করা হয়েছে। আজকে সময় মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ধারণ করে আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁস্থ পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কর্তৃক আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের খাদ্য উৎসব ও লাইভ কুকিং শো উদ্বোধন করেন।
পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করছি। বিশ্বে আমরা গার্মেন্টস রপ্তানির ক্ষেত্রে তৃতীয় হয়েছি। এটা অনেক শক্তিশালী প্রতিযোগিতা। আবার এক মাসের ব্যবধানে আমরা দ্বিতীয়তে এসেছি। মন্ত্রী বলেন, পর্যটনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অনেক দেশ বহু দূর এগিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এর চেয়ে বেশি তথ্য উপাত্ত রয়েছে। অনেকের বক্তব্যই এসেছে এটি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। সামনে আমরা আরও চেষ্টা করব দীর্ঘ সময় পরিকল্পনা করে এই আয়োজন করার। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনের জন্য ডেডিকেটেড করার চেষ্টা করব।
মাহবুব আলী বলেন, দেশের পর্যটনশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ বছরই ডিসেম্বরে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পর্যটন নতুন যুগে প্রবেশ করবে। তিনি আরো বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। তার নেতৃত্বে পর্যটনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমরা কাজ করছি। সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে আমাদের নির্দিষ্ট যে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমরা দ্রুতই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো। দেশের পর্যটনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পর্যটনে অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও প্রকৃতিসহ পর্যটনের সকল উপাদান ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। ব্র্যান্ডিং করতে হবে। দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে প্রচার করতে হবে। তাহলেই বিদেশি পর্যটকগণ আমাদের পর্যটন গন্তব্যগুলো নিয়ে আকর্ষণ বোধ করবেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র, আ, ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ এনডিসি, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের ও ট্যুরিজম পুলিশের ডিআইজি ইলিয়াস শরীফ প্রমুখ।









