নজিপুর কাঁচা বাজারের পাশেই আমাদের বাসা। বাসা থেকে দুই মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়ে কাঁচা বাজারের একটি রঙিন চিত্র। মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা তরতাজা কাঁচা বাজার। কথায় আছে দেখা শোনার ভার-আম কাঁঠালেই শার। তরতাজা কাঁচা বাজার দেখবেন কিন্তু যখনই কিনতে যাবেন তখনই চোখ দুটি বড় বড় হয়ে মুখটি মলিন হয়ে যাবে। কারণ বাজারে তো লেগেছে আগুন। তবে এ আগুন অন্যরকম। অন্যান্য সময় পুরো বাজারে আগুন লাগেনা। পণ্য ধরে ধরে আগুন লাগানো হয়। কখনো পেঁয়াজে আগুন লাগানো হয় আবার কখনো নিরীহ লবণে, আর েেভাজ্যতেলে তো প্রায়ই আগুন লাগে। তবে, এবারে আগুন লেগেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসপত্রে।
এসব কথা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিল, পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম নামক একজন দিনমজুর। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত বউ আমাকে বলে বাজার আনো। তবে, আমি বলি কেমনে আনবো। সব জিনিসে আগুন লেগেছে। আমরা দিন মজুরি কাজ করি। সামান্য রোজগারের টাকা দিয়ে কিভাবে উদ্ধোগামী বাজার থেকে বাজার-সদা করবো। যেখানে ভোজ্যতেল সয়াবিনের লিটার প্রায় ২০০ টাকা, সরিষার তেল ২শ’ টাকা লিটার, কাঁচামরিচ লাফ দিয়ে ২২০ টাকা কেজি, ডিম করেছে হাফ সেঞ্চুরি, বয়লার মুরগি ডাবল সেঞ্চুরি। তাহলে বাজার করবো কিভাবে আর খাবো কিভাবে?
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পত্নীতলার বাজারগুলোতে সব ধরণের নিত্যপণ্যেও দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে বিভিন্ন শাক-সবজির দাম। শুধু শাক সবজির দাম নয়, ছ-ছ করে সব বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এত চিন্তায় পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পটল, কাঁচা পেঁপে, ঝিঙ্গেসহ বেশ কিছু পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। তবে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে সরবরাহ বাড়ার পরেও সবজির দাম কমার বদলে উল্টো বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে করলা, বেগুন, বরবটি, শসা, কাঁচা পেঁপে, পটোল, ঝিঙেসহ প্রায় সব ধরণের সবজি। বরবটি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, শসার কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কাঁকড়োল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা যা আগে ছিলো ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটলের দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, করোলার দাম ছিলো ৪০ থেকে ৫০ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, কচুর লতি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে যা আগে ছিলো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ২২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা আর আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজিতে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চিকন ও মোটাচাল প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৪৯ থেকে ৫০ টাকা, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।
ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।









