রক্ষণাবেক্ষণে ঐতিহ্যবাহী এ জাতীয় উদ্যান থেকে মোটা অংকের রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে
দিনাজপুর-ঠাকুরগাও মহাসড়কের পূর্ব ধারে মনোরম পরিবেশে বীরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শালবন। যা জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে বনটি। শালবনটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেব গড়ে তোলা হলে এর সৌন্দর্য্য আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুদ্দিন বলেন, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শালবনটি শহরের প্রাণকেন্দ্রের পার্শ্ববতী পৌর এলাকার মাকড়াই এলাকাজুড়ে অবস্থিত। আমার জন্মের পর থেকে শালবনটি দেখে আসছি। তখন যত বড় দেখেছি এখন চার পাশের শাল গাছ কেটে জমিদখল করে বাগানটি ছোট করা হয়েছে। ছোট ছোট চারা গাছ কেটে ফেলার কারণে অনেক গাছ বড় হচ্ছে না। অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাগানের মাটি বালু নিয়ে পুকুর আকৃতির গর্ত বানিয়ে ফেলেছে। যার কারণে অসংখ্য শালগাছ ভেঙ্গে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শালগাছ। শত বছরের এ প্রাচীন শালগাছগুলোর দৃশ্য দেখলে মনে হয় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ডুবে যাওয়া। সরকারের নজরদারি ও সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় উদ্যানটির হারিয়ে যাওয়া জৌলুস ফিরে পেতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বন বিভাগের কর্মকর্তা গদাধর রায় বলেন, বীরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান শালবনটি প্রায় মাকড়াই ও জগদল মৌজার ১৬৯.৬২ একর জমি নিয়ে গঠিত হয়েছে। বাগানের আশেপাশের প্রায় ৫ থেকে ৬ একর জমি বেদখল রয়েছে। যা আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বাগান দেখাশুনা করার জন্য আমি ও একজন মালি ছাড়া কোনো প্রহরি নেই। বনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় আশেপাশের মানুষদের ও গরু ছাগলের অবাধে বিচরণ করছে।
তবে ঠাকুরগাও রেঞ্জের আওতায় উদ্যানটিতে ফাঁকা জায়গায় ও গাছের ফাঁকে আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, জাম, জামরুল, জলপাই, পিতরাজ, হলুদ, চিকরাশি, বেল, কদম, গোলাপজাম, কদম, জাম্বুরা, চালতা, শিদা, শিমুল, কাঞ্চনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। এখানে আমাদের বসবাসের জন্য থাকার বাড়িঘরগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে পরিত্যক্ত হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর বীরগঞ্জ শালবনটিকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করে একটি দর্শনীয় স্থানের অর্ন্তগত করেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা পরিষদের পার্শ¦বর্তী দক্ষিণে মহাসড়কের পাশে বাংলাদশেরে অন্যতম সংরক্ষতি এলাকা হওয়ায় শহরের মানুষদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও স্বাস্থ্যসম্মত বাতাসের দেখা মিলবে। পৌর কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন সংরক্ষতি এলাকা জাতীয় উদ্যানটির দিকে সুদৃষ্টি দিলে উত্তরবঙ্গের দর্শনীয় স্থান হিসাবে দ্রুত সুনজরে পড়বে দেশবাসীর কাছে।
বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোশারফ হোসেন বাবুল বলেন, বীরগঞ্জ শালবাগানটি জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা পৌরবাসীর জন্য বিশাল পাওয়া। তবে এটি এখন পর্যন্ত বন বিভাগের আওতায় রয়েছে। বন বিভাগের লোকদের অদুরদর্শীতায় কিছু সংখ্যক পাতা কুড়ানিরা গাছের চারা কেটে পরিবেশ নষ্ট করছে। আমাদের প্রকৃতি তার নিজের মতো করে গড়ে উঠুক আর আমরা তার সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করবো। পৌরসভার পক্ষ থেকে অবশ্যই জাতীয় উদ্যান করতে সব রকম সহযোগিতা করবে।
বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, বীরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান শালবনটি দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২৮ কিমি. উত্তরে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পূর্ব ধারে মনরোম পরিবেশে অবস্থিত। শালবনটির পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদীর শাখা ঢেপা নদী। যা তার সৌন্দর্য্যকে আরো দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। বীরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান শালবনটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ-যেমন শাল, বতে, বাঁশ, শিমুল, শিশু, সোনালু গাছ। তবে শাল হচ্ছে এ জঙ্গলরে প্রধান বৃক্ষ। এছাড়াও এ উদ্যানে রয়েছে বিভন্নি প্রজাতরি পাখি, সাপ, বানর ইত্যাদি। বনটির সৌন্দর্য্য ও জৌলুস ফিরে পেতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে পাশে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করছি।









