- শতকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা
মাত্র আট দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাগজের আড়ালে সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প আমদানি করে নগরের জুবিলী রোডের কাদের টাওয়ারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার এ পণ্য চালানটি লক করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি একশ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার ডেপুটি কমিশনার শরফুদ্দীন মিয়া।
এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ মিথ্যা ঘোষণায় চীন থেকে আমদানিকৃত আর্ট পেপারের ভেতর লুকিয়ে আনা সিগারেটের জাল স্ট্যাম্পের এক পণ্য চালান খালাস প্রহণের অপচেষ্টা করে ধরা পড়ে। এ চালানে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার পিস সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এতে ৯০ থেকে ১৪৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালির আন্দরকিল্লার এ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাস্টমস বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এছাড়া কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে সরকারি এ সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, নগরের জুবিলী রোডের কাদের টাওয়ারের (৪র্থ তলা) আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে এ ফোর সাইজের ৮০ জিএসএম কাগজ আমদানির ঘোষণায় দেয়। তবে মিথ্যে ঘোষণা দিয়ে এ ফোর কাগজের ভেতর ১২০ কার্টন সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প আমদানি করে। যার মধ্যে নিম্নমানের ১ কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার পিস এবং মধ্যমমানের ২০ লাখ ১৫ হাজার পিস হালকা সবুজ ও খয়েরি রংয়ের জাল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। এতে হালকা সবুজ রংয়ের স্ট্যাস্পের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৩ থেকে ১০১ টাকা। অপরদিকে হালকা খয়েরি রংয়ের স্ট্যাম্পের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৯ থেকে ৬২ টাকা। এ জাল স্ট্যাম্পগুলো ১ কোটি ৬২ লাখ সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহার করা যেতো। নগরীর আগ্রাবাদেও সিএন্ডএফ এজেন্ট মধুমতি এসোসিয়েটস লিমিটেড আরাফাত এন্টারপ্রাইজের এ পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল। আরাফাত এন্টারপ্রাইজ বিগত সময়ে একই সিএন্ডএফ এজেন্ট মধুমতি এসোসিয়েটস লিমিটেডের সহায়তায় ৬টি বিল-অব-এন্ট্রিতে ‘এ-৪ পেপার’ ঘোষণায় পণ্য খালাস গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার শরফুদ্দীন মিয়া বলেন, চীন থেকে এ ফোর সাইজের ৮০ জিএসএম কাগজ আমদানি করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ। কাগজের আড়ালে চালানটিতে সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প আছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। চালানটির এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কতটি ব্যন্ডরোল পাওয়া গেছে এবং কত টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে তা পরে জানা যাবে।
তিনি আরো বলেন, দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সিগারেটের স্ট্যাম্প ক্রয় অথবা বিদেশ থেকে আমদানির সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারের নির্দেষে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









