- তছিরনের মুখে হাসি
নিজের নামে একখন্ড জমি আর সেই জমিতে পাকা ঘর হবে- এটা কল্পনা করতে অবাক লাগে। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো ভূমিহীনের খোঁজ নিয়ে অভিভাবকের কাজটি করে দিলেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শঠিবাড়ি বাজার এলাকার গৃহহীন প্রতিবন্ধী বিধবা তছিরন বেগম (৬৫)।
মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। সরকারে ‘মুজিব ছায়া’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ওইসব পরিবার পাচ্ছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর, একটি বাথরুম, দুটি করে ফ্যান, লাইট ও একটি টিউবওয়েল। আজ সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে অংশ নিয়ে গৃহহীনদের মাঝে এসব বাড়ি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৪৯৫টি থানায় গৃহহীনদের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘মুজিব ছায়া’। যার ফলশ্রুতিতে ডিমলায় ভূমিহীন এমন এক পরিবার মুজিব ছায়া তলে আশ্রয় খুুঁজে পাচ্ছে। ডিমলা থানা পুলিশের দানকৃত জমিতে সরকারি অর্থায়নে পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে ইতিমধ্যে বাড়ি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ঘরে বসবাস শুরু করছেন অসহায় পঙ্গু তছিরন বেগম। চোখে মুখে তৃপ্তি নিয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান ও ডিমলা থানার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তছিরন বেগমের ছোট জামাতা মমিনুর রহমান বলেন, স্বপ্নেও ভাবিনি আমার শাশুড়ির এমন ঘর হবে।
ডিমলা থানার ওসি তদন্ত বিশ্বদেব রায় জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরের নকশা, কাজের গুণগত মান রক্ষা এবং ফলজ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। মুজিব ছায়া প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শঠিবাড়ি বাজারের পাশে ডিমলা থানা পুলিশ ৩ শতক জমি কিনে তছিরন বেওয়াকে দলিল মুলে রেজিস্ট্রি করে দেয়।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলার গয়াবাড়ি বাজারের পাশে আড়াই শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মুজিব ছায়া প্রকল্পের একটি বাড়ি। নির্মাণাধীন বাড়িটি পাচ্ছেন ওই বাজারে পলিথিনের ছাউনির নীচে দিনাতিপাত করা শারিরীক প্রতিবন্ধী তছিরন বেওয়া।









