- তিস্তাচরে শীতের কামড়
- নিউমোনিয়ায় শিশুর মৃত্যু
হিমেল হাওয়ায় আর ঘন কুয়াশায় কাতর লালমনিরহাটের মানুষ। গত দুই দিন ধরে জেঁকে বসেছে শীত। প্রতিদিন কমছে তাপমাত্রা। ঘনকুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সূর্যের দেখা দিলেও সেই সঙ্গে বেড়েছে কনকনে ঠান্ডা। এতে কাবু হয়ে পড়েছে তিস্তাপাড়ের শিশু-বৃদ্ধরা। তিস্তাপাড়ের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এদিকে সোমবার সকালে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৬ মাসের শিশু শিউলী মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশু সদর উপজেলা কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাটের রায়হান মিয়ার শিশু কন্যা। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আলম দোলন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, সোমবার সকালে লালমনিরহাট সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শহরের বাহিরে পুরো এলাকা রয়েছে ঘনকুয়াশার চাদরে ঢাকা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লালমনিরহাটের তিস্তার ৬৩ চরের খেটে খাওয়া মানুষেরা। হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শীতের তীব্রতা ও হিমেল হাওয়া বাড়তে শুরু করেছে। ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। তিস্তাপাড়ের শিশু-বৃদ্ধ সকলেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
শীতে দুর্ভোগে পড়েছে ১৩টি নদ-নদী তীরবর্তী ৬৩টি চরের প্রায় লক্ষাধিক নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতে খেটে খাওয়া মানুষ কাজকর্ম না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত চার দিনের শীতে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগির সংখ্যা। গবাদি পশুও রেহাই পাচ্ছে না শীতের প্রকোপ থেকে।
পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে বাসীন্দা রব্বু মিয়া জানান, হামার এদিক খুব ঠান্ডা, এ ঠান্ডায় ঘর থাকি বেড়ার মান চায় না। দুই দিন ধরি কাজতও যাই না। যে শীত কবে যে যায়। এ শীতে কষ্টে আছি। কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারি শোইলমারী গ্রামের আকবার আলী বলেন, তিস্তাচরে শুধু হু হু করি বাতাস নাগে। দুই দিন ধরি হামাগুলার অবস্থা খারাপ। ঘুম থাকি উঠি খড়, খড়ি জড়ো করি আগুন পোয়াচ্ছি। এই চরত কাহো কম্বল ধরি আইসে না।
লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রন্ত হয়ে পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে শিশু ও বয়স্ক ৮৬ জন রোগির ভর্তি রয়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়লে রোগি আরও বাড়তে পারে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, শীতার্ত মানুষদের এ পর্যন্ত ২২ হাজার জন মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









