নদীর ভাঙন রোধে নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে সফলতা পেয়েছেন প্রকৌশলী সৈয়দ এমদাদুল হক। ইতোমধ্যে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রক্ষায় ২০১৮ সালে তার এই মডেল টেস্ট সম্পন্ন করে পাওয়া গেছে সাফল্য। মডেল টেস্টে নতুন প্রযুক্তি কার্যকর, দীর্ঘস্থায়ী এবং তূলনামূলক খরচের হিসেবে সাশ্রয়ী প্রমাণিত হয়েছে।
পানির সর্বনিম্ন লেভেল থেকে উপরিভাগের ঢালে ছিদ্রযুক্ত কংক্রিটের ব্লকের গালিচা এবং প্লাস্টিকের প্রলেপযুক্ত মোটা তার দিয়ে গালিচা তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করেন প্রকৌশলী সৈয়দ এমদাদুল হক। তার এই প্রযুক্তিকে পানি বিশেষজ্ঞরাও কার্যকর বলে মত দিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত পরস্পর সংযুক্ত কংক্রিট ব্লকের গালিচা প্রয়োগ করে একটা পাইলট প্রকল্প সম্পাদনে যৌথভাবে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এবং মানব হিতৈষী সংস্থাকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে এ গবেষণাকে এগিয়ে নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশে মোট নদীপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার। আর পোল্ডার, হাওড়, নদী ও উপসাগর তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘের বাঁধ। এই নদীগুলোতে এবং বাঁধে প্রতি বছর বর্ষাকালে প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দেয়। এতে বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রকৌশলী সৈয়দ এমদাদুল হক জানান, প্রচুর সামগ্রী নিক্ষেপের কারণে ঢালের কাছে পলি জমে গেলে পরে বালুভর্তি ব্যাগ ফেলতে না হলেও নদীর গভীরতা কমে যায় আর নদীর ওপরের ঢালে পানির প্রবল ঢেউ আঘাত করতে থাকে। এরকম পরিবেশবিরোধী নদীশাসনের দ্বারা দেশের পানিসম্পদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিণামে অনেক নদী শুকিয়ে গেছে এবং এখনো শুকাচ্ছে, নাব্য হ্রাস পাচ্ছে ও নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে, তীরবর্তী গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে, তীরবর্তী এলাকায় আধুনিকায়ন কঠিন হচ্ছে, ড্রেজিং করে নদীর নাব্য দীর্ঘস্থায়ী করা যাচ্ছে না, প্রয়োগকৃত রক্ষামূলক কাজের জন্য প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, শহরাঞ্চলে উদ্বাস্তু মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমদাদুল হক ১৯৮৮ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেন। তিনি মানব হিতৈষী সংস্থা স্থাপন করে সেই সংস্থার নামে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় জাতীয় জাদুঘরে পরস্পর সংযুক্ত কংক্রিট ব্লকের গালিচা প্রয়োগ-সংক্রান্ত প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি ২০১০ সালে পানির সর্বনিম্ন লেভেল থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত ঢালে পরস্পর সংযুক্ত কংক্রিট ব্লকের গালিচা স্থাপনের কৌশল উদ্ভাবন করেন। এ নিয়ে ২০১২ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে নদীভাঙন প্রতিরোধে পানির সর্বনিম্ন লেভেল থেকে উপরিভাগে একধরনের গালিচা এবং তলদেশে আরেক ধরনের গালিচা সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।
এমদাদুল হক আরও জানান, সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং থেকে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদগণও এ ব্যাপারে সহযোগিতায় আগ্রহী।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









