সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার হাজরারাটী গ্রামের আফছার মোড়ল(৬৩) প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে কাজে যায়। কিন্তু ঘটনাক্রমে উপজেলার হাজরাকাটী গ্রামের কোলাচ বিলে দুপুরে এক টার সময় একটি ব্যতিক্রম ও ভিন্ন প্রজাতির প্রাণি পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। আসার পর জানতে পারি এটি একটি দুর্লভ প্রজাতির রাজ কাঁকড়া। যার বৈজ্ঞানিক নাম লিমুলাস পলিফিমাস।
একে কাঁকড়া বলা হলেও প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সাথে বেশি মিল রয়েছে। এরা প্রধানত অগভীর, নরম বালি বা কাদাসমৃদ্ধ সমুদ্রতলে বাস করে। রাজ কাঁকড়া হচ্ছে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো দেখতে উপবৃত্তাকার একটি বিপন্ন প্রজাতির দুর্লভ কাঁকড়া। সাধারণত এদের জীবনচক্র ডিম, লার্ভা, জুভেনাইল এবং পূর্ণাঙ্গ দশা নিয়ে গঠিত। এরা ৯ থেকে ১২ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং ১২ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
নদীতে যখন পূর্ণ জোয়ার থাকে তখন এরা প্রজনন করে এবং তখন কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালী এবং সেন্টমার্টিনস দ্বীপের নিকটে জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে। এরা মূলত জৈব আর্বজনা ভুক প্রাণী। এদের অধিকাংশই সমুদ্রের তলদেশের ছোট প্রাণী, পোকা-মাকড় এবং ছোট মাছ শিকার করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরা প্রধানত নিশাচর।
এ প্রসঙ্গে তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা বাবলি আক্তার জানান, হাজরাকাটী গ্রামে একটি বিলুপ্ত প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে বিষয় টি শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং দেখি সত্যিকার বিরল প্রজাতির একটি রাজ কাঁকড়া।
উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত থাকয় এবং সংগঠনের পক্ষ হতে প্রকৃতিতে অবমুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করলে সংগঠনের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সহ সভাপতি জহর হাসান (সাগর) এর নেতৃত্বে প্রকৃতিতে উন্মুক্তের আহব্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের পক্ষ হতে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।
আনন্দবাজার/শাহী









