শুষ্ক মৌসুমে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ সাঁকো দিয়েই সোনারবাংলা খাল পারাপার হয়। বর্ষা মৌসুমে দুই গ্রামের মানুষ হয়ে পড়েন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তখন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে পারাপার হতে হয় তাদের। দুর্ভোগে থাকা গ্রামবাসীরা কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা নয়। বরগুনার বেতাগী শহর থেকে মাত্র কয়েক কিমি দূরে সোনারবাংলা ও দক্ষিণ করুনা নামে গ্রাম দুটির অবস্থান। জেলা শহর থেকে গ্রাম দুটিকে আলাদা করেছে সোনারবাংলা নদী। খালের ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে দুই গ্রামের মানুষজনকে। এ সাঁকো পার হতে গিয়ে রোগী, বৃদ্ধ ও স্কুলগামী শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ সাঁকোটি দিয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষাকালে বাড়ে মানুষের ভোগান্তি। প্রায়ই গাছের সেতুটি ভেসে যায় স্রোতে। তখন নৌকাই হয় একমাত্র যোগাযোগের উপায়। নৌকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে কলেজ পড়–য়া ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাইকেল চালিয়ে আমি বেতাগী সরকারি কলেজে যাই। হাতে সাইকেল নিয়েই সাঁকো পার হতে হয়।
উত্তর করুণার বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, বর্ষাকালে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে থাকে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে সহজে হাসপাতাল যেতে পারে না। এমনকি বর্ষাকালে কেউ মারা গেলেও কয়েক কিমি জায়গা ঘুরে কবরস্থানে যেতে হয়। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
দক্ষিণ করুনার বাসিন্দা চান মিয়া ও হিরো আলম জানান, সোনারবাংলা পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে গ্রাম দুটির অবস্থান। বেতাগী উপজেলার উন্নয়নের আলো সুস্পষ্ট হলেও তারা রয়েছেন অন্ধকারে। তাদের ইউনিয়ন পরিষদ, চেয়ারম্যান, মেম্বার, নেতা সব আছে; নেই শুধু উন্নয়ন। একটি সেতুর জন্য আমরা গত ৭ বছর ধরে চরমদুর্ভোগে থাকলেও কারো কোন মাথাব্যথা নেই।
ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্রিজটি আমাদের চলাচলের জন্য খুবই প্রয়োজন। এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। উত্তর করুণা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, ব্রিজের অভাবে এ গ্রামের মানুষদের সারাবছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সাঁকো পার হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খাঁন বলেন, ‘সোনারবাংলা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করার মতো বড় প্রকল্প নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানান এ জনপ্রতিনিধি।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী মা ও সাধারণ রোগীরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









