মা পোশাক শ্রমিক। কাজ করেন স্থানীয় এক পোশাক কারখানায়। গত রবিবার দিনে কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেন বাবা। আর মা বের হন রাতের ডিউটিতে। ঘরে রেখে যান তাদের ভালোবাসার তিন সন্তানকে। এরমধ্যে বাবা ঘরে তিন সন্তানকে রেখে আবার বের হন বাজারে। এরইমধ্যে ঘরে আগুন। মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সারা ঘরে। আর ঘরের ভিতরেই আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় আদরের তিন সন্তানের শরীর।
রবিবার রাত ৯টার দিকে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সিডস্টোর উত্তর বাজারে। নিহতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার স্বপন মিয়া ও মদিনা বেগমের তিন সন্তান সাদিয়া (৯), নাদিয়া (৫) ও ছেলে রায়হান (২)। স্বপন মিয়া দম্পতি সিডস্টোর উত্তর বাজার কাজী অফিসের পেছনে রুবেল মিয়ার ভাড়া বাড়িতে স্ব-পরিবারে থেকে বসবাস করতেন। তার স্বামী-স্ত্রী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ররিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার হরিববাড়ী ইউনিয়নের সিডস্টোর উত্তর বাজার কাজী অফিসের পেছনে রুবেল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া স্বপন মিয়ার রুমে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত ছড়িয়ে পরে অন্যান্য ঘরে। এসময় খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে ওই বাসায় থাকা তিন সহোদর সাদিয়া, নাদিয়া এবং রায়হান অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনার সময় ওই তিন শিশুর মা-বাবা কেউ বাসায় ছিলেন না।
খবর পেয়ে স্থানীয় স্থানীয় সাংসদ আলহাজ কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল্লাহিল বাকী উল বারী, হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু জানান, নিহতদের পরিবারকে মরদেহ দাফন কাফনের জন্য নগদ ত্রিশ হাজার টাকা ও লাশ বহন করার জন্য গাড়ীর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে পাশের রুমে আগুন লেগে তালাবদ্ধ স্বপনের রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দগ্ধ হয়ে মারা যান ৩ সহোদর শিশু। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়।









