কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ঝুঁকির মধ্যে মসজিদ রেহাই পাচ্ছেনাসহ শত শত বাড়ি ঘর। তিস্তার ভাঙ্গনের কবলে শত শত বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। একদিনে বজরা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়।
সরেজমিনে বজরা ইউনিয়নে দেখা যায়, ভাঙন থেকে বাঁচতে মানুষজন বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ওই ইউনিয়নের খামার দামার হাট, সাতালঙ্কর, পশ্চিম বজরা, বকুলাকুড়া, চর বজরা গ্রামে। ভাঙনের কবলে পরে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হতে বসেছেন।
৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষজন তাদের বাড়ি ঘর হারিয়েছে। নদীর ভাঙ্গন তীব্র হওয়ায় অনেকের চোখের সামনে বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গরীব মানুষগুলো শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলে, ওই এলাকার মিজানুর রহমান, আমিনুল হক, মোজাম্মেল, আবু বক্কর মিয়া, ওয়াজেদ আলী, মাজেদ, মকবুল হোসেন, নুরুজ্জামান সরকার, আঃ গফুর, তচলিমা, ইজারা বেগম, ফুল মিয়া, নুরছালিমা, আঃ ছামাদ, তালেব মিয়া, নজুল ইসলাম, জিয়াউল হক, মাজেদা বেগম, জাইদুল ইসলামসহ অসংখ্য মানুষদের বাড়ি ঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
উক্ত ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলায়মান গণি জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর ভাঙন বেশি হচ্ছে। অত্র এলাকার প্রায় ১৫ টিরও বেশি পরিবারের বাড়ি সকালে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা স্থানীয় ভাবে ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছি। ভাঙ্গনের কারনে পাটক্ষেত ও বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে অসংখ্য পরিবার।
বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাইয়ুম সরদার বলেন, নদী ভাঙনের কারনে মানুষজন বিপাকে পড়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতা করা হবে। তিস্তা নদীর ভাঙ্গন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-প্রকৌশলী জনাব নজরুল ইসলাম বলেন, বজরা ইউনিয়নের খামার দামার হাটের একটি মসজিদ প্রায় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। আমরা এখানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলন করে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাজ অব্যহত থাকবে। সাতালস্কার এলাকার ভাঙ্গন রোধের কথা বললে তিনি বলেন, এ সব চর এলাকার ভাঙ্গন রোধের কোন সরকারি ভাবে পরিকল্পনা নেই। তার পরেও এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।









