পুঁজি সংকটে বাড়ছে না ব্যবসার পরিধি
লক্ষীপুরে গ্রামীণ রাস্তাঘাটে সুপারির গাছের পাতা (খোল) পড়ে থাকার দৃশ্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। সাধারণত এসব খোল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা, বাড়ির আঙিনায় বেড়া দেয়া, নতুবা পড়ে থাকে রাস্তায় কিংবা বাগানে। এ খোল দিয়েও যে চমৎকার কিছু তৈরি করা সম্ভব তা অন্য কেউ না পারলেও করে দেখিয়েছেন এক উদ্যোক্তা। ঝরে যাওয়া খোল দিয়ে পরিবেশ বান্ধব বাসন, ট্রে ও বাটিসহ নানা রকম তৈজসপত্র তৈরি করছেন লক্ষীপুরের রায়পুর শহরের মামুনুর রশিদ। কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই তার তৈরি করা পণ্যগুলো ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
জানা যায়, মামুনুর রশিদের জন্ম রায়পুর পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের কেরোয়া গ্রামে। স্নাতক ডিগ্রিধারী মামুন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় একবার বিদেশে পাড়ি জমান। দুই মাস পরে বিদেশ থেকে ফিরে ডিগ্রী শেষ করেন। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করলেও তার প্রবল ইচ্ছা ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। ২০১৫ সালে ইউটিউবে ভিডিও দেখে সুপারির খোল থেকে বাসন তৈরির মেশিন তৈরি করেন মামুন। সাপ্তাহিক ছুটির দু’দিন রায়পুরে গ্রামের বাড়িতে এসে সুপারির খোল সংগ্রহ করেন তিনি। মীরগঞ্জ সড়কের তুলাতলি নামকস্থানে স্থাপন করেন বাসন তৈরির কারখানা। কারখানায় তৈরি করা প্রথম বাসনটি তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এদিকে চলতি বছর নিউজিল্যান্ড থেকে একজন ক্রেতাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তার কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মামুন আনন্দবাজারকে বলেন, ঝরে যাওয়া পাতা দিয়ে শতভাগ পরিবেশ বান্ধব পণ্য শুধু আমার আয়ের উৎস হবে না পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। এক সময় প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মানুষ এ পণ্য ব্যবহার করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ উদ্যোক্তা। আর এটি শিল্প হিসেবে দাঁড়ালে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। ইউরোপ আমেরিকাতে সুপারি পাতা সম্পর্কে ধারনা নেই। তাই তারা এটি সম্পর্কে নানাবিধ আশংকা বা ভয় পান।
মামুন আরও বলেন, পুঁজি সংকটের কারণে কারখানাটি বড় করতে পারছি না। অনলাইন মার্কেটিং এবং পরিচিতদের মধ্যে মার্কেটিং করছি। আগামীতে অনেক দূর যেতে চাই। এ পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী। ভবিষ্যতে বড় আকারে করতে চাই এবং পরিবেশ বান্ধব আরো কিছু পণ্য নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে মার্কেটে কাজ করতে চাই। বর্তমানে জাপানের এক ক্রেতার সঙ্গে কথা চূড়ান্ত করেছি। তিনি কিছু পণ্য জাপানে নেবেন। এখন সুপারির পাতা নষ্ট হচ্ছে। এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ বিক্রির উদ্দেশ্যেই সুপারির খোল বাগান থেকে ঘরে এনে রাখবে।
বর্তমানে কারখানাটিতে কাজ করছেন ১১ জন কারিগর। আর্থিক সহায়তা পেলে কারখানার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে কারখানাটিতে সাত ধরনের প্লেট, বাটি ও ট্রে উৎপাদন হচ্ছে। আগামীতে সুপারি খোলের নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করতে চান তিনি।
রায়পুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনজন দাশ বলেন, লক্ষীপুর জেলায় প্রায় ছয় হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এখানে প্রচুর সুপারি উৎপাদিত হয়। সঠিক ব্যবহারের অভাবে এর পাতা (খোল) বিনষ্ট বা সাধারণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সুপারির খোল দিয়ে পণ্য সামগ্রী উৎপাদন এবং রফতানি করে মুদ্রা আয়ের নতুন পথ দেখিয়েছেন মামুন। সফল উদ্যোক্তা মামুনুর রশিদের কারখানাটি পরিদর্শন করে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
আনন্দবাজার/এম.আর









