বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সেই সময়কার দিনলিপির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারের রোজনামচা’ মূলত ১৯৬৬ সাল থেকে ৬৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭১ সাল থেকে আমরা উনার কোনো লেখা পাইনি। কারণ ৭১ সালে তিনি পাকিস্তানের কারাগারে কিভাবে ছিলেন, কী অবস্থায় ছিলেন, আসলে তার কিছু আমরা জানতে পারি নাই।
অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত আইয়ুব খানের ডায়েরি থেকে সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে। সেখানে উনার সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো, উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি জয় বাংলাদেশ বলতেন। বলতেন, আমাকে যা খুশি তাই করো, আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি। আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই। এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তবে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার চেষ্টা আছে ওপাকিস্তান থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কী না?
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতাকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। আর ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর শুরু হয় বর্বর হামলা।
পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার ডাকে লাক্ষও বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়।
বিজয়ের পর বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে পড়ে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান সরকার। মুক্তির পর তিনি লন্ডন যায়। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
দেশের জেলখানার কথা তুলে ধরে তিনি জনান, আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়ে ছিলাম। জেলখানা ভেঙ্গে নতুনভাবে করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা দেয়ালের ছবি পেয়েছি, আর কিছু পাইনি। তবে আমার চেষ্টা আমি করে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লাসিফাইড রেকর্ড সংগ্রহ করতেছি, যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি আছে।
আনন্দবাজার/এম.কে









