করোনার প্রভাবে নিস্তব্ধ পুরো দেশ। স্থবির দেশের ব্যবসা বানিজ্য। বন্ধ রাখা হয়েছে দোকানপাট ও যান চলাচল। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে যশোরের গদখালির ফুলচাষিরা। দেশের এমন অবস্থায় নিঃস্ব হয়ে বসে আছে যশোরের ৫ হাজার ফুলচাষী। ফলে এসব এলাকার শত কোটি টাকার ফুল খাচ্ছে স্থানীয় গরু-ছাগলে।
দেশের ফুলের রাজ্য খ্যাত যশোরের গদখালী। ফুল বেচাকেনার বড় বাজার গড়ে ওঠেছে এখানে। প্রতিদিন সূর্য উঠার সাথে সাথে জমে উঠতে থাকে এই ফুলের বাজার। এখান থেকেই ছোট-বড় পাইকাররা ফুল কিনে দেশের বিভিন্ন মানুষের মাঝে ফুলের রঙ ছড়িয়ে দিতেন এসব ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। করোনার কারণে পাল্টে গেছে ফুলের ছন্দপতন। মানবশূন্য হয়ে পড়েছে ফুলের বাজার। এমন অবস্থায় মাঠের ফুল মাঠেই পচে যাচ্ছে। কেটে খাওয়াতে হচ্ছে গরু ছাগলকে। এমন দশায় শত কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এখানকার ব্যবসাীরা। প্রতিদিন প্রায় ১২ রকমের ফুল বেচাকেনা হয় এই বাজারে।
যশোরের এক ফুলচাষি জানান, করোনা কারণে ১২ দিন ধরে পরিবহন-দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফুলের বাজার বসছে না। খেত থেকে প্রতিদিনই দেড় হাজারের বেশি গোলাপ ফুল কেটে ছাগল গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। ফুল না কাটলে নতুন করে আর কুঁড়ি আসে না। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। আমার মতো এই এলাকার হাজারো ফুলচাষি এমন বিপাকে পড়েছেন।
প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফুলের ভরা মৌসুম। কিন্তু করোনা ভাইরাসে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে ফুল চাষি ও ব্যবসায়িদের অন্তত ১শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি গদখালী ফ্লাওয়ার সোসাইটি।
আনন্দবাজার/রনি








