- ডাটাবেজের অপেক্ষায় ডিলাররা
সিরাজগঞ্জর শাহজাদপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ভেরিফাইড ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়ন কার্যক্রম চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ হাজার ১৫৮ জন ভোক্তার নিবন্ধন হয়নি। অপরদিকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৪জন ডিলারের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলাররা তাদের চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের চাল উত্তোলন এবং ডাটাবেজ হওয়া ভোক্তাদের মাঝে চাল বিক্রি করছেন। সব ভোক্তার ডাটাবেজ না হওয়ায় (ডাটাবেজ না হওয়া ভোক্তাদের) অনেক চাল গুদামে মজুত রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক ডিলার।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত আগষ্ট থেকে উপকারভোগীদের ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যার শেষ দিন আজ। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ইউডিসিরা এ ডাটাবেজ করছেন। উপজেলার মোট ১৩টি ইউনিয়নের ১৫ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী ভোক্তার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০৯ জন তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাটাবেজ হওয়া ভোক্তার সংখ্যা ২২ হাজার ৭৫১ জন ও ৬ হাজার ১৫৮ জন ভোক্তার নিবন্ধন যাচাই হয়নি এখনো।
সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নে মোট ২৮২০ জন ভোক্তার মধ্যে ১৫০১ জন। গাড়াদহ ইউনিয়নের মোট ১৯৫৮ ভোক্তার মধ্যে ১৬৯৩ জন। পোতাজিয়া ইউনিয়নে ২১৬৮ ভোক্তার মধ্যে ১৯৫৩ জন, রুপবাটি ইউনিয়নে ১৯০০ ভোক্তার মধ্যে ১৫০৪ জন, গালা ১৯৫০ ভোক্তার মধ্যে ১৪৪২ জন, পোরজনা ২৭৭৯ ভোক্তার মধ্যে ২১৭৭ জন, হাবিবুল্লাহনগর ২০০০ ভোক্তার মধ্যে ১৬৫৯ জন, বেলতৈল ২২০০ ভোক্তার মধ্যে ১৭১১ জন, খুকনী ২৫০০ ভোক্তার মধ্যে ২২৮৯ জন, কৈজুরি ২৭১৯ ভোক্তার মধ্যে ২১৭২ জন, সোনাতনী ২৫০০ ভোক্তার মধ্যে ২০৭২ জন, নরিনা ২২৪৪ ভোক্তার মধ্যে ১৫৭৫ জন ও জালালপুর ইউনিয়নে ১৫৭১ ভোক্তার মধ্যে ১০১৩ জনের ডাটাবেজ হয়েছে।
একাধিক ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডাটাবেজের তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য অফিস থেকে ডাটাবেজ হওয়া তালিকাভুক্ত ভোক্তাদের মাঝে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সব ভোক্তার ডাটাবেজ না হওয়ায় (ডাটাবেজ না হওয়া ভোক্তাদের) অনেক চাল গুদামে মজুত রাখা হবে বলে জানিয়ে ডিলারা।
উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচার প্রচারণাসহ সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী ভোক্তারদের ডাটাবেজ দ্রুত শেষ করতে তার বিভাগসহ প্রতিটি ইউনিয়নের ইউডিসিরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদেরকে নিজ নিজ ইউনিয়নের ভোক্তাদের ডাটাবেজ শেষ করতে সব সময় যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাহলে এখনো কেন প্রায় ৬ হাজারের বেশি ভোক্তাদের ডাটাবেজ হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদকে বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর উপকারভোগী ভোক্তারদের নাম ঠিকানা ভুল, একই পরিবারে একাধিক জন, ভিজিডি সুবিধাভোগীসহ অনেকে এলাকায় না থাকার কারণে এখনো ডাটাবেজের তালিকায় তাদের নাম যাচাই হয়নি। তিনি আরও জানান, যে ভোক্তাগুলো বাতিল হবে আগামী মাসে নতুন করে ভোক্তাদের নাম নিয়ে তালিকাভুক্ত করা হবে। ডিলারদের চাল বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ডাটাবেজের তালিকা অনুযায়ি ডিলারদের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চলতি মাসে এবং যেহেতু ডাটাবেজের তালিকা অনুযায়ি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যদি বরাদ্দের চাল কোন ডিলারের কাছে কতটুকু মজুত আছে সেটা এখন সহজেই বোঝা যায়। আগামী মাসে সেই হিসাবে সমন্বয় করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে ডিলারদের।









