টাঙ্গাইলের সখীপুরে পরচুলা তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা। সখীপুরের কীর্তনখোলা, কালিয়ান পাড়া, আড়াইপাড়া এবং কচুয়া গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পরচুলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন এসে উপকরণ দিয়ে গেলে তারা পরচুলা বা নকল চুল তৈরি করে দেন। মজুরি হিসেবে বড় মাপের পরচুলায় ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা আর মাঝারি মাপের পরচুলায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এ পরচুলাই আবার বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। বড় মাপের একটি পরচুলা তৈরি করতে সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত দিন।
কে জি কে উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী কণা আক্তার জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি পরচুলা তৈরি করছে সে। এতে তার নিজের ও পড়ালেখার খরচ চলছে। কালিয়ানপাড়া গ্রামের কলেজছাত্রী আঁখি বলেন, আমি ২৫ জন নারীকে দিয়ে পরচুলা তৈরি করাচ্ছি। কিন্তু ন্যায্য মজুরি পাচ্ছি না।
আড়াইপাড়া গ্রামের পরচুলা ব্যবসায়ী আপন তালুকদার বলেন, আমি প্রায় ৪০০ জন নারীকে দিয়ে এ কাজ করাই। আমার কাজ হলো গ্রামের নারীদের কাছে উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং তা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো।
কে জি কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর বেল্লাল হোসেন বলেন, পরচুলা একটি শিল্প এবং কর্মমুখী শিক্ষা। শিক্ষার্থীরা সময় অপচয় না করে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার দীক্ষা নিচ্ছে। বর্তমানে পরচুলা ব্যবসার অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









