সাড়ে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ ৬ মাস ধরে বন্ধ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একাধীকবার চিঠি দিয়েও কাজ শুরু করাতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড
সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে সাড়ে ৬ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাকে বার বার চিঠি দেয়া হলে চলতি ডিসেম্বরের শুরুতেও কাজ শুরু হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাচিল পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রয়ারী মাসে প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ১৭টি প্যাকেজে গত মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে থাকে। পানি বাড়ার কারণে গত জুন মাস থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সিরাজগঞ্জে বন্যার সতর্কবার্তা জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীর চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। চলতি বছরে যমুনা নদীতে দফায় দফায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করে। এবছর নদী ভাঙনে প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘরছাড়াও ফসলিজমি, স্কুল, মাদ্রসা, মসজিদ, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষ করে উপজেলার জালালপুর এবং খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মনগ্রাম ও আড়কান্দিতে ভাঙনের ভয়াবহতা বেশি দেখা দেয়। জালালপুর আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছ গ্রামের ঘরগুলোও যমুনা নদীতে বিলীন হয়। ভাঙন কবলিত এসব মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। কেউ খোলা আকাশের নিচে, অন্যের জমি ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের উপর আশ্রয় নেয়। নদী ভাঙনের জন্য এসব এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ি করেন। তাদের দাবি, সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না করায় নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারন করে।
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়ে জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ও খুকনী ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ জানান, নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার মানুষ নিস্ব হয়ে গেছে। এভাবে নদী ভাঙতে পারে তা আগে কখনও দেখিনি। কাজ শুরু হওয়ার মাঝপথে চলে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যে কারণে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারন করে। বসতভিটা হারিয়ে অনেকে এখন পথে বসেছে। গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারনে ভাঙনরোধ করা সম্ভব হয়নি। তারা ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মানের কাজ শুরুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করেন তারা।
১১ নং প্যাকেজের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এআরসি কনষ্ট্রাকশনের ম্যানেজার আকরাম হোসেন বলেন, চলতি বছরে যমুনা নদীতে দফায় দফায় পানি বৃদ্ধির কারনে কাজ সাময়িক বন্ধ ছিলো। বাঁধের কাজ শুরু করার জন্য আমাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি মাসে কাজ শুরু করা পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের তদারকির কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ কেন আছে সে বিষয়টি তিনি জানেন না। আপনারা কি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে তাগাদা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জব্বাবে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, সবাইকে ফোনে এবং চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, ১৭টি প্যাকেজের মধ্যে ২নং প্যাকেজে বক্লের কাজ শুরু হয়েছে। সবাইকে মোবাইলে বারবার বলা হচ্ছে কাজ শুরুর জন্য এবং বরাদ্দের কিছু সমস্যা আছে তবে তারা অতি দ্রুতই শুরু করবে বলে তিনি আশাবাদী।









