সম্প্রতি কংস নদের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘর-বাড়ি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে গ্রামবাসীর। তাই তারা নদে বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা কংস নদ উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের নাশুল্ল্যা গ্রাম, শাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্টা গোল্লাপাড়া, বাড়ইপাড়া, ঔটি পশ্চিমপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মধ্য দিয়ে ভাটি দিকে বয়ে গেছে।বিগত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চারটি গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বদেশী ও শাকুয়াই ইউনিয়নে নদের তীরবর্তী বসতভিটা রক্ষা করতে গ্রামবাসী নিজ নিজ উদ্যোগে বাঁশগাছের ডালপালা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। এতে নদের ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। বালিপাড়া এলাকায় ভাঙনে গ্রামীণ রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ঠিক এর পাশেই ওট্রিপাড়া এলাকায় ঢলের প্রবল স্রোতে নদের বাঁধ ভেঙে কয়েক একর ফসলি জমিতে বালুর আস্তরণ পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, নাশুল্ল্যা এলাকায় কয়েক একর ভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কংস নদের বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এই ব্যাপারে শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, নদের ভাঙন চলছে। কয়েক বছরের ভাঙনের কবলে দুটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে জন্য একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। দুই ইউনিয়নের নদের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









