করোনা মহামারি মোকাবেলায় কর্মহীন মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ঘরে থাকা ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলাতে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি করোনাভাইরাস রোধে জনসমাগম বন্ধসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। লকডাউনের শুরুতেই অসহায় কর্মহীন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ সুপার।
দেখা গেছে, জনসমাগম এড়াতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পুলিশ সুপার ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। ২৬ মার্চ সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সাথে সাথেই মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম স্ব-উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সহ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে করোনা ভাইরাসের কারণে অভাব অনটনে পড়া সাধারণ মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য পুলিশ সুপার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
হরিনাকুন্ডুর প্রত্যান্ত পল্লী জনপদে গভীর রাতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক সাবান এবং হ্যান্ডস্যানিটাইজার সহায়তা প্রদান করেন পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম।
কোটচাদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে-গ্রামে চাল ডাল তেল লব্ন সাবান হ্যান্ড সেনিটাইজার মাস্ক নিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান এবং ৫এপ্রিল পুনরায় রাতের বেলা কোটচাঁদপুর থানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনমজুর,অসহায়,দুঃস্থ মানুষের নিকট জেলা পুলিশের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম নিজেই মাঠে নেমে গত ৬এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট কার্যক্রম তদারকি করেন।এবং জেলা পুলিশের উদ্যোগে রাত্রেবেলা মহেশপুর থানা এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র,দুঃস্থ ,শ্রমজীবী মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ।
গত ৭এপ্রিল করোনা পরিস্থিতির শিকার অসহায় মানুষের জন্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে কালীগঞ্জ থানাধীন বারোবাজার ও কাশিপুর বেদে পল্লীর মানুষের নিকট খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান পিপিএম বিভিন্ন সময় পায়ে হেটে শহরের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে এবং বিভিন্ন বাজারে গিয়ে তিনি লক ডাউনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান পিপিএম বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে যানবাহন, কল-কারখানা-দোকান ও বিপনী বিতান বন্ধ। ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। এজন্য করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বিভাগ সহায়তা প্রদান করছেন।এসময় তিনি জেলা পুলিশ বিভাগ ও সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান হাসানুজ্জামান পিপিএম।
আনন্দবাজার/শহক









