কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, মোটা চালের দাম স্থিতিশীল আছে, সরু চালের দাম এখনও কিছুটা বেশি। আর ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেড়েছে। ভোজ্যতেল আমাদের আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। এ অবস্থায় তেলের দাম কিছুটা না বাড়ালে কেউ আমদানি করবে বলে মনে হয় না। তবে সরকার কঠোরভাবে বাজার মনিটর করছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোজ্যতেল আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, গত দুই বছরের করোনাকালে উন্নত বিশ্বের কৃষকেরা আবাদ করেনি, মাঠে নামেনি, শ্রমিকেরা খনিতে নামেনি। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া-যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। এসবের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। গত শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ কোনভাবেই বিএনপির অপচেষ্টা মেনে নেবে না। বিএনপি ২০১৪ সালের মতো দেশে আবার অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা মনে করছে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, বোমাবাজি করে, রেল লাইন তুলে, গাড়িতে আগুন দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে আবারও ক্ষমতায় আসবে। তা মেনে নেবে না জনগণ। বিএনপি আন্দোলনে হাওয়া দিতে পারছে না, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। ২০১৫ সাল থেকে তারা একদিনও হরতাল দিতে পারে নি। বাংলাদেশে আর কোনদিন হরতাল হবে না। আন্দোলনের নামে গাড়িতে আগুন দিলে তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। ন্যায়ের পথে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে তাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের জান-মাল রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই বাঁকা পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনও বাঁকা পথে জনগণের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় আসে নি। কাজেই, আগামী দিনে বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র করে কাউকে নির্বাচন বানচাল করতে দেয়া হবে না। বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের সমর্থনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। জনগণ তাদেরকে নির্বাচিত করলে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে তাদের স্বাগত জানাব।
বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপ এবং বিএনপি যখন বুঝতে পারবে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই- তখন তারা অবশ্যই নির্বাচনে আসবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, আলহাজ¦ মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, আহসানুল হক টিটু এমপি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ।









