মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হিমাগারে রাখা কৃষকের আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকা দরে। এতে কৃষক পাচ্ছেন কেজিতে পাচ্ছেন ১৪-১৫ টাকা। এসব খাওয়ার আলু বেপারী ও আড়তদারের হাত বদল হয়ে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা। এ পরিস্থিতিতে কৃষকের প্রতিবস্তা আলুতে লোকসান হচ্ছে ২শ টাকার অধিক। এতে আলু চাষিদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। আগামীতে আলু চাষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় হিমাগার ঘুরে ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গেলো বছর অসময়ে বৃষ্টির ফলে ৬শ হেক্টরের অধিক জমিতে বপনকৃত আলু জমি নষ্ট হয়। আলু মৌসুমের প্রথমদিকে ক্ষতি পূষিয়ে উঠতে এ অঞ্চলের আলু চাষীরা পুনরায় জমিতে আলু চাষ করে। উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ করা হয়েছিল।
কৃষকরা জানায়, প্রতিমণ আলু উৎপাদনে জমিতে খরচ পড়েছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। আলু উত্তোলনের পর আলুর পাইকারী বাজার মন্দার কারণে স্থানীয় কৃষকরা সংরক্ষণের অভাবে লোকসানেই আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন। শ্রীনগরে আলু সংরক্ষণের জন্য মোট ৩টি হিমাগার রয়েছে। বর্তমান পাইকারী বাজার দর অনুযায়ী এ অঞ্চলের হিমাগারে সংরক্ষণকৃত আলুর মণ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭শ’ টাকা। বেপারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আলুতে লাভবান হলেও মূলত আলু চাষীরা দেখছেন লোকসানের মুখ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতি বস্তা আলুর জন্য হিমাগার ভাড়া বাবদ গুনতে হচ্ছে ২শ’ ২০ টাকা। এছাড়া বস্তার দাম, যাতায়াত খরচসহ অন্যান্য হিসাব নিকাশ শেষে আলু চাষে ২শ’ টাকার অধিক লোকসান হচ্ছে। বাধ্য হয়েই এ দামে হিমাগারের আলু বেপারীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা। স্থানীয় চাষীরা জানান, এ বছর সিত্রাংয়ের প্রভাবে কৃষি জমিতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা করছেন। যদি দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তাহলে আসছে আলু মৌসুমে আলু চাষাবাদে বিড়ম্বনার শিকার হবেন তারা।
উপজেলার আটপাড়া এলাকায় শ্রীনগর কোল্ড ষ্টোরেজ লিঃ নামক হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, শেডে আলু ঢেলে শোডিংয়ের কাজ চলছে। শ্রমিক আইয়ুব হোসেন, রফিক, করিম জানায়, এ কাজে আলুর প্রতি বস্তায় মজুরী হিসেবে পাচ্ছেন ১৮ থেকে ২৩ টাকা। বেপারী নজরুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান বলেন, ডায়মন্ড জাতের ছোট আলুর কেজি ১২ টাকা ও বড় আলুর কেজি ১৮ টাকায় কিনেছেন। এসব আলু কমিশনে ঢাকার শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ি, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটের আড়তে পাঠাচ্ছেন। সব খরচ বাদে প্রতি কেজি আলুতে ৬০ পয়সা কমিশন পাবেন তারা।
শ্রীনগর কোন্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, হিমাগারের ধারন ক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার বস্তা। এখন চেম্বারে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু আছে। হিমাগারে রাখা কৃষকের বীজ আলু এখনও কেনাবেচা শুরু হয়নি।









