গাইবান্ধায় সুস্বাদু মাসকলাই ডালের বড়া তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। চাহিদা ও বাজার দর ভালো থাকায় ডালের বড়া বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কারিগররা। নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন গ্রামের নারীরা। এদিকে ডালের বড়া তৈরির কারিগরদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে বিসিক।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধা সদরের খামার বোয়ালী, কামারজানির নতুনবন্দর, সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ীর উজিরের বাইগুনি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ভোর থেকেই ডালের বড়া তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যাতায় পিশে রাতে ভিজিয়ে রাখতে হয় মাসকলাই ডাল। সকালে তা ফাটিয়ে ছোট ছোট মাস কলাইয়ের বড়া বানিয়ে বাঁশের চালা কিংবা কাপড়ের ফ্রেমে আটকে দেওয়া হয়। দু’একদিন পরে তা রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। সেই শুকনো বড়া বাড়ি থেকেই খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হয়। সারাবছর ধরে এ কাজ হলেও শীতে তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই।
বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে ডালের বড়া। ডালসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় লাভ কম হচ্ছে। যে রকম পরিশ্রম আর সময় ব্যয় হয় তার থেকে তেমন একটা আয় হয়না। তবে সরকারিভাবে আধুনিক যন্ত্র পেলে উপকৃত হতো। তারপরেও বংশ পরস্পরায় পেশাকে টিকিয়ে রাখার কথা জানান কারিগররা। প্রতিদিন ১০ কেজি মাসকলাই ৬০০ টাকায় কিনে বড়া তৈরি করার পর শুকনো বড়া হয় ৮ কেজি। শুকনো বড়া পাইকারি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে ৮শ টাকা বিক্রি হয়। তা থেকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা আয় হয়। প্রতিমাসে আয় হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
গাইবান্ধার সদর উপজেলার খামার বোয়ালীর আজাদ বলেন, আমরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। এখনো পুরনো ব্যবসা ছাড়তেও পারি না। বড়া তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে যায়। তারা অনেক কষ্ট করে বড়া তৈরি করছে। আধুনিক যন্ত্র থাকলে এত কষ্ট হতো না। পরিশ্রম অনুযায়ী তারা পারিশ্রমিক হচ্ছে না।
একই গ্রামের মজিদা বেগম বলেন, বাড়িতে সব সময় বসে থাকি। এখন আর আগে মতো একজনের আয় দিয়ে সংসার চলে না। অবসর সময় কাজে লাগাই। যা আয় হয় তা দিয়ে ছেলে, মেয়েদের স্কুল কলেজের বেতন দেই।
বিসিক গাইবান্ধা জেলা কার্যালয় সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র রায় জানান, এ ডালের বড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটা বর্তমানে দেশ থেকে বিদেশেও রপ্তনী হচ্ছে। তারা ঋণের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। আমরা বড়া তৈরির কারিগরদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি।
আনন্দবাজার/এম.আর









