গুলশান হামলার মামলায় দণ্ডিত দুই জঙ্গির মাথায় কিছু সময়ের জন্য দেখা গিয়েছিল আইএসের চিহ্ন সম্বলিত কালো টুপি, কিন্তু কোথা থেকে এ টুপিটি এসে ছিলো, আবার কোথায় চলে গেল, তার কিছু এখনও জানা যায় নি।
গেল বছরের ২৭ নভেম্বর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলার রায় দিয়েছিল আদালত। তবে রায় দেওয়ার পর দুই জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের এবং জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধীর মাথাতে আইএসের চিহ্ন সম্বলিত কালো টুপি দেখা গিয়েছিল, আর তাদের মুখে ছিল আস্ফালন।
এ ঘটনার প্রায় সাত মাস পর গুলশান হামলার বার্ষিকীতে এই বিষয়ে জানতে চাইলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানানয়, এখনও কিছুই জানা যায়নি, সেটা রহস্য হয়েই আছে।
তবে তাদের দুজনসহ অন্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসার সময় মাথায় টুপি দেখা যায়নি। রায়ের পর যখন প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় রিগানের মাথায় টুপিটি দেখা গিয়েছিল, এরপর প্রিজন ভ্যানে জাহাঙ্গীরকেও সেই টুপি পরে থাকতে দেখা যায়।
টুপির উৎস খুঁজতে কারা কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা পুলিশ আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে কোনো কমিটিই কিছু বের করতে পারেনি।
কারা কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন জানান, আমরা তদন্ত করে দেখেছি, কারাগার থেকে কোনো আসামি এ ধরনের কোনো টুপি পরে আদালতে যায়নি। রায়ের পরও কোনো আসামি এ ধরনের টুপি পরে কারাগারে ঢোকেনি। তাছাড়াও কারাগারে এ ধরনের টুপি জঙ্গিদের সরবরাহ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মাহবুব আলম বলেন, টুপিটি রায়ের দিনই আদালত পাড়ায় জঙ্গিদের কাছে দেওয়া হয়েছে। তবে কে দিয়েছে, কখন দিয়েছে এ ধরনের ‘পিন পয়েন্ট’ আমরা খুঁজে পাইনি।
এদিকে, ঘটনার ৩ ডিসেম্বর আরেকটি মামলার শুনানিতে এসে রিগ্যান বিচারকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আদালত পাড়ায় ‘অচেনা’ এক ব্যক্তির নিকট থেকে তিনি টুপিটি পেয়েছিলেন।
আনন্দবাজার/এম.কে









