করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান ৯০ বসর বয়সী এক বৃদ্ধ। মারা যাওয়া ব্যক্তি শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা এলাকার থিরোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ছিলেন দেওয়ানবাগী পীরের মুরিদ। বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ থাকার পর তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে রোগ মুক্তির জন্য দেওয়ানবাগীর ওরসেও অংশ নেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ মার্চ মতিঝিলে দেওয়ানবাগীর সেই ওরসে সারা দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মুরিদ অংশ নেন। আর এই জমায়েত থেকে করোনা বিস্তারের ব্যাপক শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১৬ দিন অসুস্থ ছিলেন ওই বৃদ্ধ। এছাড়া তিনি এ সময়ের মধ্যে অন্তত চারটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যান। যাত্রাপথে লঞ্চ ও অ্যাম্বুলেন্স এবং ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করেন। আর অংশ নেন দেওয়ানবাগীর ওরসে। এছাড়া কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে মিরপুর-১৩ নম্বরে তার এক মেয়ের বাড়িতে ছিলেন তিনি। সে সময় সেখান তিনি স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এখন তার মেয়ে, জামাই ও তাদের সন্তান জ্বর ও সর্দি-কাশিতে ভুগছেন।
মারা যাওয়া বৃদ্ধের বড় ছেলে থাকেন ইতালি। গত ৮ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় আসেন। এর দুদিন পর চলে যান গ্রামের বাড়িতে। পর তিনি গত ১২ মার্চ চলে আসেন ঢাকায়। ওঠেন তার শ্বশুরবাড়ি মিরপুর-১ নম্বরের উত্তর টোলারবাগের ১৯/জি নম্বর বাড়িতে।ওই বাড়িতেই করোনায় সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় মৃত্যু হয় গত ২০ মার্চ শুক্রবার।
ইতালি ফেরাত বৃদ্ধের ছেলে বলেন,এখন পর্যন্ত আমার কোনো জ্বর ও সর্দি-কাশি হয়নি। এ পর্যন্ত আমি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছি। তবে বাবা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে দেওয়ানবাগীর ওরসে গিয়েছিলেন এবং যখন মিরপুরে আমার বোনের বাসায় ছিলেন, সেখানকার স্থানীয় মসজিদে তিনি নামাজ আদায় করেছেন। এসব জায়গা থেকেও তিনি করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আনন্দবাজার/শহক









