- একদিনে রেকর্ড ৮৫৭ রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ২
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু বাংলাদেশে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিগত ২০০০ সালের পর থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে, মানুষ মারাও যাচ্ছে। করোনা মহামারি শুরুর বছর ২০২০ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কম ছিল। তবে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৮ হাজার ৪২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।
করোনা মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালে এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২২ হাজার ৯৩৮ জন। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪২৫ জন। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। তাছাড়া গেল সেপ্টেম্বরে সারাদেশে ৯ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৩৪ জন রোগী। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২২ হাজার ৫১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬১ জন।
সূত্রমতে, ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। এ জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৬ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে ১ হাজার ৩১১ জন আর মারা গেছে ২১ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা এ বছর এক দিনে সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪ জনে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জনে।
গতকাল সোমবার সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত রবিবার ৮৫৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ৫২৩ জন ঢাকার বাসিন্দা। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪ জন। সবমিলিয়ে বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন দুই হাজার ১৫ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ৯৮৯ জন।









