গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। আমের মুকুল ঘিরে মৌমাছির নাচানাচি শব্দ। সব মিলিয়ে আমের সময় সামনে আসছে। আম উৎপাদনে এবারে রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীতে এবার আম চাষের পরিমাণ বেড়েছে। রাজশাহীতে গতবারের চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার এরই মধ্যে মুকুল থেকে কোনো কোনো গাছে গুটিও এসেছে। আবহাওয়া এখনো অনুকূলে থাকায় মুকুল থেকে কোনো গাছে গুটিও এসেছে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, এবার রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা গতবার ছিল ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। সেখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন। সে লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে এবার ৫৮২ হেক্টর জমিতে আম চাষ বেশি হওয়ায় গত বারের চেয়ে উৎপাদন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বারের চেয়ে আড়াই হাজার মেট্রিক টন বেশি। আর এটি হলে অতিতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘হেক্টর প্রতি গড়ে ১৫ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন হারে আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে এবার আমের উৎপাদন গত বারের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলেই আমরা আশা করছি। এমনকি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হতে পারে। যদিও আমের মুকুল কিছু কিছু কিছু গাছে কম আছে। তবে আমের চাষাবাদ বেশি হওয়ায় সেটি পুশিয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও বেশি হবে।
রাজশাহীর তানোর মুণ্ডুমালা এলাকার আমচাষি তুহিন বলেন, ‘এবার কোনো গাছে আমের মুকুল প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।্ আবার কোনো গাছে তেমন নাই। সেই হিসেবে এবার আমের উৎপাদন মকই হতে পারে বলে মনে করছি।’
আরেক চাষি সুজন বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের উৎপাদন ভালো হবে। কোনো কোনো গাছে বিপুল পরিমাণ মুকুল আছে। গুটিও ভালো আসছে। তাই ফলন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন বাকি সময়টা মাঝে কয়েক বার বৃষ্টির প্রয়োজন হবে আম গাছের জন্য। বৃষ্টি না হলে খরার মুখে পড়ে গুটি ঝরে পড়বে। তখন ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিবে।’
পবার আম চাষি আফজাল বলেন, ‘আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রাকৃতি দুর্যোগ না না থাকলেই হলো। অনেক সময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হয়। এবার এখন পর্যন্ত দুর্যোগ দেখা যায়নি। তবে সামনের দিনগুলোই হলো আমের জন্য ঝূঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়গুলো ভালোভাবে কেটে গেলেই ফলন ভালো হবে।’









