- কালিয়াকৈর সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় বাইক পার্কিংয়ে রোগিদের দুর্ভোগ
গাজীপুর কালিয়াকৈরে সরকারি বারান্দায় এলোমেলো ভাবে মোটরসাইকেল পার্কিং করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় নিজেরাই পার্কিং ব্যবস্থা করায় রোগি ও তাদের স্বজনদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
গতকাল মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের ভিতরে এলোমেলোভাবে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল পার্কিং করে আসছে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল ও অটোরিকশা চালকরা। যার কারণে হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভিতরে ঢুকতে বেগ পেতে হচ্ছে রোগি ও তাদের স্বজনদের। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় এলোমেলোভাবে কর্মচারিদের মোটরসাইকেল পার্কিং ব্যবস্থা। নিয়মিতি এভাবে সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় পার্কিং ব্যবস্থা করায় রোগি ও তাদের স্বজনদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এসময় হাসপাতালের বারান্দায় পার্কিং মোটরসাইকেলের মালিক ওই হাসপাতালের ষ্টোরকিপার রহুল আমিন দৌড়ে আসেন। পরে তিনি তার মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নিয়ে বলেন, হাসপাতালের ভিতর থেকে মোটরসাইকেল চোরে নিয়ে যায়। তাই আমরা হাসপাতালের বারান্দায় মোটরসাইকেল রাখছি।
পার্কিং করা অপর মোটরসাইকেলের মালিক ও ওই হাসপাতালের ফার্মাসিষ্ট অজিদ কুমার বলেন, এর আগেও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। তাই ভয়ে মোটর সাইকেল ভিতরে ঢুকিয়ে রাখছি।
এসময় সেবা নিতে আসা আবুল হাসান, রোগীর আলী আহম্মদসহ আরও অনেকে বলেন, এভাবে বারান্দায় মোটরসাইকেল হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে ভিতর পর্যন্ত এলোমেলোভাবে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল পার্কিং করায় রোগি নিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, এটা একটি সরকারি হাসপাতাল, অথচ এখানকার ডাক্তার-কর্মচারিরা মনে করেন, এটা যেন তাদের নিজের বাড়ি। ঠিক মতো ডাক্তারও পাওয়া যায় না, তাদের খাম-খেয়ালি ও দায়িত্ব অবহেলাসহ হাসপাতালের নানা অনিয়মের অভিযোগের তোলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাজমুন নাহার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসময় তিনি বলেন, এর আগেও হাসপাতালের ভিতর থেকে মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। তাই আমাদের কর্মচারিরা মোটরসাইকেলগুলো ভিতরে রেখেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আল বেলাল জানান, আমরা বার বার বলার পরও পার্কিংওয়ালারা আমাদের কথা শুনছেন না। এ কারণে দুর্ভোগ তো হচ্ছেই, আমারও হাসপতালে ঢুকতে অনেক সময় লাগে। তবে চুরি হওয়ার আতঙ্কে কর্মচারিরা ভিতরে মোটরসাইকেল রাখছে।









