বিদেশে থাকা কালো টাকা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। কালো টাকা ফিরিয়ে আনতে তথ্য বিনিময়ের জন্য ১২টি দেশের সাথে ‘ইন ট্যাক্সেশন এগ্রিমেন্ট’ করার পরিকল্পনা চলছে জোরেসোরে।
যেসব দেশের সাথে এই চুক্তি হবে সেগুলো হলো- কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ।
সূত্র জানিয়েছে, দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে ঢাকা। সম্প্রতি এই উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে সরকার। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কমিটির প্রধান হিসেবে। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে ওয়ার্কিং কমিটি সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব এম আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি অনলাইন বৈঠকে বিএফআইইউয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
বিদেশি ব্যাংকগুলোতে কি পরিমাণ কালো টাকা জমা রাখা হয়েছে তা নির্ধারণের জন্য একটি ডাটাবেস প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি এগুলো ফিরিয়ে আনার প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচার রোধে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকায়।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









