করোনা থেকে রক্ষার সরঞ্জামাদি সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। করোনাকালের এসব দুর্নীতিকাণ্ডে ২৩টি মামলা করেছে দুদক।
শুক্রবার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদকে অবহিত করা স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি বিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদন এ কথা বলা হয়।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির দুর্নীতি, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি, সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্য সামগ্রী আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কমিশন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম (যেমন- মামলা দায়ের, অভিযোগপত্র দাখিল, গ্রেপ্তার, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ, আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থা হতে এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ইত্যাদি) নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি দুদক চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের অনুমোদনক্রমে বিগত তিন মাসে ত্রাণ দুর্নীতি, সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য-সামগ্রী আত্মসাৎ, অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা করেছে দুদক। প্রতিটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য ক্রয় করা নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এসময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়ে দুদক শূন্য সহিষ্ণুতার (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করছে।
ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, মোদ্দা কথা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির প্রতি করোনা প্রাদুর্ভাবের আগ থেকেই কমিশন সক্রিয় ছিল। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশন শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করছে। এরপরও কভিড-১৯ এর চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। এই অনুসন্ধানটি হতে হবে নির্মোহ ও পূর্ণাঙ্গ। মানুষকে সবকিছু জানাতে হবে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস








