কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের সাহেদাপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা বাগান করে চমক দেখালেন ফরিদ নামে এক তরুণ উদ্যোক্তা। সে ওই ইউপির মুন্সি ফজলে আলীর ছেলে।
এ অঞ্চলের মাটি উর্বর হওয়ায় সব ফলনই ভালো হয়। ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারী মাসে পরিত্যক্ত ৫০ শতক জমিতে কৃষি অফিসের সহায়তা বারী মাল্টা-১ জাতের ১৫০টি মাল্টার চারা রোপণ করেন। এর পর থেকে করোা দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় তার ইলেকট্রনিক শো’রুম। এমন সময় তিনি তার বাগান পরিচর্যা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গাছ গুলো বড় হতে থাকে। এর পর পাশের ২০ শতক জমিতে ৬০টি মাল্টার চারা রোপণ করেন। তার ১৫০টি গাছে এ বছর থোকায় থোকায় মাল্টা ধরেছে। তার বাগানে মাল্টা ছাড়াও কমলা, লেবু গাছ রয়েছে। শখের বসে বাগান করলেও এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করছেন। ইতোমধ্যে তার বাগানের চারদিকে বেড়া দিয়েছেন। তার বাগান দেখে অনেকে বাগান করতেছন ও বাগান করার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন।
বাগানের মালিক ফরিদ বলেন, তার লাকসামে একটি ইলেকট্রনিকের শোরুম আছে। পাশাপাশি তিনি মাছ চাষ করেন, তার ৭০ শতক জমিটিতে ধান চাষ করতেন। দু’পাশে বাড়ি ঘর হওয়ায় সে জমিটিতে কোনো ধান হয়না এর একপাশে পুকুর খনন করে উঁচু করে ভিটি করেন। দু একবছর বছর শাক সবজি হলেও ঘাস আগাছা ভরে যায়। জমিটি পরিত্যক্ত হয়। পরে জমিটি দেখে ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান মাল্টা বাগান করার পরামর্শ দেয়। ১৫০টি মাল্টা গাছ রোপণ করে বাগান পরিচর্যা করেন। তখন তিনি তেমন পাত্তা দেননি। বাগান করলাম ফলন হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা ছিলেন। প্রথম বছর কিছু গাছে ফুল ফুটে ২ থেকে ১টা মাল্টা ধরেছে। চলতি বছর প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ফুল আসে এবং ভালো ফলন ধরে। এরপর জমিটির চারপাশে নেটের বেড়া দিই। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবার বাগানে প্রচুর পরিমাণে মাল্টা ধরেছে। বর্তমান বাজারের দাম অনুযায়ী ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।
এ বিষয়ে মক্রবপুর ইউনিয়ন কৃষি উপ সহকারি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জায়গাটি দেখে ফরিদ ভাইকে মাল্টার বাগান করার পরামর্শ দিলে তিনি রাজি হয়ে যান, এর পর আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বললে, তিনি জায়গা দেখে পছন্দ হয়। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে মাল্টার চারা সার কীটনাশক দিই ও তাকে প্রশিক্ষণ দেই।









