ছিলেন সেনাপ্রধান, তারপর একধাপে রাষ্ট্র ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে। সেখান থেকেই এক সময় গণমানুষের বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুরের মানুষের কাছে অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সামরিক শাসক হলেও জনপ্রিয় কিছু কর্মসূচি হাতে নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তী সময়ে উপাধি পান ‘পল্লীবন্ধু’।
রাজনীতিক না হয়েও প্রায় পুরোটা জীবনভর রাজনীতির আলোচনায় ছিলেন এরশাদ। মূলত জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই রাজনীতির আলোচনায় আসেন তিনি।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এরশাদ। তিনিই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক, ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রায় তিন দশক জাতীয় রাজনীতিতে, ক্ষমতার সমীকরণে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন এই সামরিক শাসক। জাতীয় পার্টি গঠন করেন ১৯৮৬ সালে। গণতন্ত্রের কথা বলে সে বছরই সংসদ নির্বাচন দেন তিনি। সেই পরিকলপনা ভেস্তে যায়, বছর খানেকের মধ্যে বাতিল হয় সেই সংসদও।
সামরিক শাসক হলেও জনপ্রিয় কিছু কর্মসূচি নেন ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া এই সামরিক শাসক। রাস্তাঘাট-অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন, ৬৪ জেলা বাস্তবায়ন এসব কাজ করে রাজনীতিক হয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল তার।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারও পাকাপোক্ত করেন এরশাদ। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানেন তিনি। ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ ছিল তার স্লোগান। সেসময় পরিচিত হয়েছিলেন ‘পল্লীবন্ধু এরশাদ’ নামে।
নব্বইয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। তারপর জেলে যেতে হয় তাকে।









