ব্যবসায়ীর অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটে
- বিপাকে খামারি
নীলফামারীর জলঢাকায় ভারতীয় গরুর রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং স্থানীয় দেশীয় খামারিদের বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দেদারসে সক্রিয় সিন্ডিকেটটি ভারতীয় গরুর জমজমাট ব্যবসা করলেও দেখার কেউ নেই। এ যেন মরার উপর খড়ার ঘাঁ। কিছুদিন পূর্বে এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। অবৈধ এ সব গরু কেনাবেচা সামন্য কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠে। সম্প্রতি ভারতীয় গরুর নামমাত্র হাট নিলামের ছাড়পত্র এবং নামমাত্র কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়া দেখিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত পাশ^বর্তী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন চোরাই পথে আসছে গরু। আর এ সকল গরু ভারত থেকে নিয়ে আসছে বাংলাদেশের সক্রিয় একটি গরু পাচারকারি সিন্ডিকেট। এতে করে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অন্যদিকে চরম লোকসানের মুখে পরছে দেশীয় খামারিরা। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এ চোরাই গরু সিন্ডিকেট চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সকল ভারতীয় গরু পাশ^বর্তী উপজেলা ডিমলার ভারতীয় বর্ডার পার হয়ে এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও বুড়িমারী থেকে ট্রাক, পিকআপ, নছিমন ও করিমন যোগে জলঢাকা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্রটি। এতে জলঢাকায় এ অবৈধ গরু ব্যবসায়ীর একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ গরুর হাটে চলছে ভারতীয় গরুর রমরমা ব্যবসা। ভারতীয় গরুর রমরমা ব্যবসা দৃষ্টিগোচর হয় স্থানীয় সুধী সমাজের ব্যক্তি সহ গণমাধ্যমকর্মীদের।
চলতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার মীরগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ভারতীয় গরুর শুদীর্ঘ লাইন। বিশাল আকৃতির ভারতীয় গরু হাট ইজারাদারদের গোপন যোগসাজশে সক্রিয় সিন্ডিকেটটি ভারতীয় গরুগুলো হাটে তুলেছেন। যেখানে শুধু চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে চেয়ে দেখছেন গৃহ ও ক্ষুদ্র খামারীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, এবারের ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু বেপারীরা এসে এ সকল ভারতীয় গরুর কদর বাড়িয়েছেন। ফলে দেশীয় খামারিদের মাথায় হাত পড়েছে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, মীরগঞ্জের হাটের ঐতিহ্য আছে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে। এ খ্যাতি ভাঙ্গিয়ে হাট ইজারাদারেরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গোপন যোগসাজশে সক্রিয় একটি গরু ব্যবসায়ীর অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
ভারতীয় গরু হাটে তুলে বিক্রি করার বৈধতা আছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরগঞ্জ হাট ইজারাদার মনজুর হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কাগজ আছে কি না তা হাটে এসে দেখে যান। এ বিষয়ে মীরগঞ্জ থানা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, বিষয়টি আমি যতদুর জানি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখেন। তাই কিছু বলতে পারছি না।
পূর্বের ন্যায় ভারতীয় গরু মীরগঞ্জ হাটে তুলে রমরমা ব্যবসা চলছে এবং দেশীয় খামারিরা পরছেন বিপাকে এমন মন্তব্য করে মুঠোফোনে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুব হাসানের সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় গরুর যদি বৈধতা না থাকে তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।









