মার্কেটের দোকানের মালিক, কর্মচারি এবং ক্রেতা সবাই নারী। নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহী করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজারে একটি মার্কেট পরিচালনা করছেন শুধু নারীরা। নানা প্রতিবন্ধকতা পার করে আসা এসব নারীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে আজ অনেক নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। বর্তমানে এটি নারীদের মার্কেট হিসেবেই পরিচিত। এখানে নারীরা কেউ ব্যবসা, কেউ তৈরি করছে পোশাক আবার কেউ পার্লারের কাজও করছেন।
২০১২ সালে সর্ব প্রথম মিথিলা নামে একজন উদ্যোক্তা একটি মাত্র শো-রুম দিয়ে মার্কেটটি চালু করেন। বর্তমানে এ মার্কেটে দোকানের সংখ্যা ৪০টি।
জয়পুরহাট পৌরসভাধীন পূর্ববাজার পৌর মার্কেটে দ্বিতীয় তলায় ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ৮৮টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ পরবর্তী দোকানগুলোর বরাদ্দ গ্রহীতারা চালু না করে বন্ধ রাখে। এ সময় একফোঁটা আশার আলো খুঁজতে কয়েকজন উদ্দ্যেমী নারী উদ্যেক্তা দোকান দিয়ে মার্কেটটি চালু করার প্রানান্ত চেষ্টা করা হয়। নারীদের অধিকাংশই ছিলেন গৃহিনী, শিক্ষিত বেকার, স্বামী পরিত্যক্তা ও ছাত্রীসহ প্রভৃতি পেশার।
জয়পুরহাটের মত মফস্বল শহরে দ্বিতীয় তলায় মার্কেটে ক্রেতাদের কেনাকাটা করার প্রবনতা না থাকলেও বর্তমান পৌর পরিষদ মার্কেটটিকে নারী বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান পূর্ব বাজার পৌর মার্কেটের ২য় তলায় ৪০ এর অধিক দোকান নিয়ে নারী ব্যবসায়ীরা সফলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
মার্কেটে মিথিলা ফ্যাশন হাউসের স্বত্ত্বাধিকারি মিথিলা আক্তার মুক্তা, জেমি ফ্যাশনের জেমি আক্তার, ইতি লেডিস টেইলার্সের পাপিয়া বেগম, লাহা ফ্যাশনের ফারজানা রহমান জেমী, সাজ লেডিস কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারি নাসরিন আক্তার, জেসি বিউটি পার্লারের বিউটি আক্তার, নীল কমল ফ্যাশনের পুজা আগরওয়ালাসহ আরও কয়েকজন নারী উদ্যোক্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে মার্কেটটিতে।
এ মার্কেটে শাড়ি, টু-পিছ, থ্রি-পিছ, বোরকা, জুয়েলারী, জুতা, ব্যাগ ও বাচ্চাদের কাপড়, লেডিস টেইলাস, বিউটি পার্লার, কসমেটিকসসহ যাবতীয় সামগ্রীর সৌখিন পণ্য বিক্রয় হয়ে থাকে।
সাজ লেডিস কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারি নাসরিন আক্তার বলেন, শুরুর দিকে তেমন কোনো ক্রেতা এ মার্কেটে আসতো না। পরে নারী বন্ধব পরিবেশ হওয়ার কারণে নারী ক্রেতারা আসতে শুরু করে। ব্যবসা বেশ ভালোই হচ্ছিল। তবে, করোনার কারণে ব্যবসায় ভাটা পড়ে। সেই ধকল কেটে উঠতে পারিনি এখনো।
নাসরিন আক্তার আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছি। এখানকার আয় থেকে আমি ও আমার পরিবার চলে। আমার সন্তানদের লেখাপড়া চলে। আমার দোকানের কর্মচারিদের সংসার চলে। এটা আমার ভালোলাগে।
রাকা এক্সক্লুসিভের স্বত্ত্বাধিকারি পাপিয়া জানান, করোনার সময় ব্যবসায় ভাটা পড়ে। এর আগে বেশ ভালোই চলছিল। এখন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।
জয়পুরহাট পৌর সভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, পৌর এলাকার নারীদের ব্যবসায়ে আগ্রহী করার লক্ষ্যে এ মার্কেটটি তৈরি করা হয়েছে। নারী বান্ধব হিসেবে মার্কেটটি পরিচিতি পেয়েছে পৌরসভার মধ্যে। নারী ক্রেতারা এসে যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখিন না হয় সেজন্য মার্কেটে টয়লেট থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, আমাদের দেশে পুরুষরা যেভাবে ব্যবসায় এগিয়েছে সেখানে নারীরা এগিয়ে যেতে পারেনি পারিবারিক, সামাজিক পরিবেশের কারণে। নারীরা যাতে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসতে পারে সেজন্য আমরা চেষ্টা করেছি। সফলতার মুখও দেখেছি। মার্কেটটি পৌরসভা তথা জয়পুরহাট জেলার মধ্যে একটি আধুনিক নারী মার্কেট গড়ে তুলার ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে।









