করোনা কেটে ঈদ উৎসব---
- বুকভরা আনন্দ নিয়ে ছুটছে নাড়ীর টানে
মিলন (৩২)। রাজশাহী মহানগরীতে একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং এর কাজ করে। বাড়ি নওগাঁ জেলার পোরশা থানার শুড়িপুকুর গ্রামে। কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য ছুটি কম। পাশের জেলা হলেও ছয় মাস পার হয়েছে বাড়ি যাওয়া হয়নি। একমাত্র ছেলের পথ চেয়ে থাকে বাবা-মা। এবার এসেছে সুযোগ। সামনে ঈদ। সঙ্গে আরো দুই দিনের ছুটি বাড়িয়ে নিয়ে গতকাল শনিবার গ্রামের বাড়ি যান পরিবারসহ। গ্রামের বাড়িতে পা রাখতেই পরিবারটিতে খুশির বন্যা বয়ে যায়। ঈদকে ঘিরে দেশের গ্রামে গ্রামে এখন মিলনের সুর। কর্মের জন্য যে যেখানেই আছে ছুটে আসতে শুরু করেছে গ্রামে নাড়ির টানে।
মিলন বলেন, করোনার কারণে গ্রামে যাওয়া হয়নি অনেক দিন থেকে। যেতে ইচ্ছে করলেও করোনা সংক্রামণের ভয়ে আর যাওয়া হয়নি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা আছে। সে জন্য আরো বেশি সতর্ক থাকতে হয়েছে। সবার টিকা নেয়া হয়েছে। করোনার কমেছে। সে কারনে এবার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া।
টানা দুই বছর ঈদের কোন আমেজ ছিল না। ঈদের আনন্দ ছিল মানুষের কাছে সাদাকালো। করোনা মহামারির পর এবারই প্রথম কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই ঈদ উদযাপন করছে মানুষ। সে কারণে মানুষ বুক ভরা আনন্দ নিয়ে ছুটে চলেছে গ্রামের দিকে। কয়েকদিন ধরেই পথে পথে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনা মহামারির পর ঈদযাত্রা ফিরেছে স্বাভাবিক সময়ের মতো। ডেকে ভিড় করে ঈদ আনন্দ উদ্যাপনে বাড়ি যাচ্ছেন মানুষ।
ঢাকাসহ দেশের সব নগরগুলো থেকে মানুষ ছুটছে গ্রামে। করোনার কারণে গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। এবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামে যাবে। এবার ঈদে ঢাকা ছাড়বেন ১ কোটিরও বেশি মানুষ। গ্রামের মানুষগুলো জীবন-জীবিকার তাগিদে শহরে বাস করছেন। কংক্রিটে ঘেরা জীবনগুলো ব্যস্ত হয়ে থাকে গ্রামের ছোঁয়া পেতে। এ যেন শুধু ঈদ না। যান্ত্রিক জীবন থেকে ক্ষণিকের জন্য হলেও মুক্তির প্রশান্তি।
এদিকে ঈদ যতোই কাছে আসছে ততোই যেন গ্রাম মুখোরিত হয়ে উঠছে। সপরিবারে ঈদ পালন করার জন্য মানুষ ঈদের সময় নাড়ির টানে নিজেদের গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করে। এখন বাস, রেলস্টেশনগুলোতে ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। মানুষ ছুটে আসছে গ্রামে তাদের আপনজনদের কাছে। শুধু এই ঈদের আনন্দটুকু একসাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদ দুয়ারে। টার্মিনালগুলোতে চাপ বেড়েছে। যে যেমন করে পারছেন তেমন করে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, করোনা না থাকায় এবার ঘরমুখি মানুষের চাপ বেশি। সে কারণে একটু বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষদের।









