পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বেপরোয়া গতিতে চলছে ব্যাটারিচালিত শত শত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। চালকরা মানছে না কোনো নিয়মনীতি। নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দক্ষতা। মহাসড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে এসব তিন চাকার যানবাহন।
ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্যাটারিচালিত অবৈধ এসব যানবাহনের কারণে সুবিদখালীর বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। অবৈধ এই যানবাহনের অবাধ চলাচল দেখে মনে হয় এগুলো বন্ধে বা নিয়ন্ত্রণ করার যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে এসব যানবাহন। অবৈধ এসব যানবাহন উপজেলার সড়ক-মহাসড়কসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামীণ সড়ক গুলোতে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অদক্ষ চালকরা অনেক সময় গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। অধিকাংশ অটোরিক্সা চালাচ্ছে শিশু-কিশোর এবং অন্য পেশা থেকে আসা শ্রমিকরা। এসব অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা যেখানে-সেখানে পার্কিং করা ও যাত্রী ওঠানে-নামানোর কারণেও ঘটছে দুর্ঘটনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা সদর সুবিদখালী তিন রাস্তার মোড়ে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় মনোয়ারা বেগম (৬২)নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এর ১০ দিন আগে গত ২৫ আগস্ট উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাধঘাট বেপরোয়া একটি অটোরিক্সার ধাক্কায় মমিন নামের ৬ বছরের একটি শিশু প্রাণ হারায়। এছাড়াও গত এক মাসে ব্যাটারীচালিত এই যানবাহনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনার খবর শোনা গেছে।
দুর্ঘটনার শিকার অনেকে জানান, এসব ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চালকদের কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। তাই তারা যেরকম খুশি, সেই রকম গাড়ী চালায়। যার কারনে প্রায় সময়ই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা। যার কারনে ভোগান্তিতে নাকাল সাধারণ মানুষ। অদক্ষ চালকরা গাড়ি চালানোর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক ও মহাসড়ক। এদের কোন ব্যালেন্স থাকে না, অনেক দ্রুত গতিতে চলে। এরা তেমন অভিজ্ঞও নয়, রাস্তায় বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু এদের দেখার যেন কেউ নেই! খুব দ্রুত এসব যানবাহনের লাগাম টানা উচিত। বেপরোয়া ও অদক্ষ এসব চালকদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলার অটোরিক্সা ও অটোবাইক ড্রাইভারদের ডেকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও কাউকে নিয়ম ভঙ্গ করে বেপরোয়াভাবে চালাতে দেখা মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









