মহাসড়কে অবৈধ যান ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বন্ধের দাবিতে ৪-৫ নভেম্বর বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে আগত পর্যটকরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। এছাড়া কুয়াকাটার দেড় শতাধিক হোটেলের আগাম বুকিং বাতিল করা হয়েছে। বরিশালের অভ্যন্তরীন রুটে বাস মালিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারনে বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়লো পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এমএ মোতালেব শরীফ।
মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় শুক্রবারকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ হোটেলে অগ্রীম বুকিং হয়ে থাকে। তবে, আগামী দুইদিন বাস ধর্মঘট থাকার কারণে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। আর এ সকল পরিস্থিতি পর্যটন কেন্দ্রগুলোর জন্য অশনি সংকেত হিসাবে কাজ করে। যার ভুক্তভোগী পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীরা।
সৈকতের জিরো পয়েন্ট, গঙ্গামতির সৈকত, সানসেট পয়েন্ট ঘুরে জানা যায়, অল্প সংখ্যক পর্যটক থাকলেও আজকের মধ্যেই তাঁরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন। আর এ ধর্মঘটের কারনে কর্মহীন দিন কাটাচ্ছে সৈকতে থাকা সকল দোকানিরা।
ট্যুর অপারেটর সূত্র জানায়, আগামী শুক্রবার তাদের একশত লোকের বুকিং ছিল। ধর্মঘটের কারণে আজকে তারা ফোন করে বাতিল করে দিয়েছে। বাস ধর্মঘট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কুয়াকাটায় পর্যটক আসবে না বলে জানায় সূত্রটি।
আবাসিক হোটেল সাগর'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ সাগর বলেন, 'আমাদের হোটেল বেশীরভাগ সময়ই অগ্রীম বুকিং থাকে। কিন্তু আগামী দুইদিনের বুকিং ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো পর্যটক হোটেলে নেই। তাই চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছি আমরা।
করোনা পরিস্থিতিতে পর্যটকরা কুয়াকাটায় না আসায় বেকার হয়ে পড়েছিল পর্যটন সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার কর্মী। এর ফলে আর্থিক সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছিল তাদের। এরপর পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে কুয়াকাটা। তবে ধর্মঘটের ডাকে ফের লোকসানের মুখে পড়েছে পর্যটনখাত।









