বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুটির বদলে কোথাও বাঁশ, কোথাও মরা গাছ আবার কোথাও জীবন্ত গাছে টানানো হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাইন অনেক জায়গায় হাতের নাগালে বিপদসীমার মধ্যে টানানো হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গিরিশনগর গ্রামের ফায়জুর রহমানের বাড়ির পাশ থেকে শুরু করে এখলাস ফরাজির বাড়ির পুকুর পাড় হয়ে আশপাশের প্রতিটি বাড়িতে বাঁশ, জীবন্তের গাছ ও নড়বড়ে খুঁটির মাধ্যমে টু-টেয়েন্টি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় হাতের নাগালে ঝুলছে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন! স্থানীয় গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামে প্রায় ৫০টি বৈধ মিটারধারী গ্রাহক রয়েছে। তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল, সরকারি ভ্যাটসহ সকল চার্জ পরিশোধ করে আসছেন। তবুও বিদ্যুৎ অফিস থেকে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ অফিসে খুঁটির দাবি জানিয়ে আসলেও দায়সারা আশ্বাস ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি। ফলে তাঁরা নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় ভাবে খুঁটি নির্মাণ করে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। আর্থিক সংকুলান না হওয়ায় অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও জীবন্ত গাছে করে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
গিরিশনগর গ্রামের গ্রাহক ফায়জুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয়না। আমরা বিভিন্নভাবে টাকা খরচ করেও কাজ করাতে পারিনি। গ্রামের ফোর ফোরটি বিদ্যুৎ লাইন আনছি নিজেদের টাকায়। এরপরও আমাদের কপালে বিদ্যুতের খুঁটি জুটেনি। বাঁশ, গাছ দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি বছরের পর বছর ধরে। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায়না।
একই গ্রামের বাসিন্দা গ্রাহক এখলাস ফরাজী বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে করতে আমরা হয়রান। কেউ নিজের টাকায় পিলার বানিয়ে, কেউ বাঁশ দিয়ে আবার কেউ গাছে করে বিদ্যুৎ নিয়েছি। প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা এ অবস্থায় আছি। আমাদের এ দুরাবস্থা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কোনো মাথাব্যাথা নাই।
বিপিডিবির স্থানীয় লাইনম্যান ঈসমাইল মিয়া বলেন, আমি লাইনম্যান হিসেবে যোগদানের পূর্ব থেকেই এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায হয়েছে। এ লাইনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা বলতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ছাতক এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সর্দার বলেন, আমি বিষয়টা দেখব। আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।
আনন্দবাজার/শহক









