প্রলোভন দেখিয়ে ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্ত্রীসহ এক জিনের বাদশাকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর ও জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শনিবার রাতে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ মেম্বার (৪৩) এবং তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৩)। রংপুর মহানগর ও জেলা সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, রংপুর নগরের পশ্চিম বাবুখাঁ এলাকার ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান বাদী হয়ে গত বছরের জুলাই মাসে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালি থানায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামুনুর রহমানের মনা ইলেকট্রনিক নামে শাপলা চত্বরে একটি দোকান আছে। ২০০৫ সালে সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ মেম্বার ও পারভীন বেগমের সঙ্গে মামুনুর রহমানের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগে সবুজ মিয়া নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দেন।
আতাউর রহমান জানান, প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী মামুনুর রহমানকে ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়াসহ অল্পদিনের মধ্যে কোটি টাকার মালিক হওয়ার প্রলোভন দেখান সবুজ মেম্বার। তাকে ইউএস ডলার, প্রাচীন ধাতব মুদ্রা, স্বর্ণ মূর্তি, মূল্যবান পাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন। শুধু তাই নয়, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শত শত কোটি ডলারের মালিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাংকে জমা হবে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বস্তায় করে তারা মামুনুর রহমানকে বাড়িতে পৌঁছেও দেবেন। এসব কথার ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ী মামুনুর রহমানকে দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা চেকবই হাতিয়ে নেন প্রতারক দম্পতি।
সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, সরল বিশ্বাসে নিজের জমিজমা বিক্রয় করে সবুজ ও পারভীন দম্পতিকে কয়েক দফায় ৭৪ লাখ টাকা দেন ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটি চেপে রাখলেও গত বছরের ২৭ জুলাই রংপুর মহানগর কোতয়ালি থানায় প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। পলাতক সবুজ দম্পতিকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









